উত্তর কোরিয়ার ডজনখানেক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি সিউলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

উত্তর কোরিয়া বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় এক ডজন স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। দুই কোরিয়ার সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে সিউলের পক্ষ থেকে সামরিক পর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।

- Advertisement -

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) জানায়, উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে পূর্ব সাগরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। পূর্ব সাগর জাপান সাগর নামেও পরিচিত। সম্ভাব্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের আশঙ্কায় নজরদারি ও সতর্কতা জোরদার করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।

অন্যদিকে, জাপানের কোস্টগার্ড জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে—এমন একটি বস্তু সাগরে পড়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জাহাজগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এসব পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে নতুন নির্ভুল লক্ষ্যভেদী টর্পেডো ব্যবস্থা ও মধ্যপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির দাবি, এসব অস্ত্রের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাতিসংঘের যৌথ তদন্তে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া এক বছরেরও বেশি সময় আগে ওই স্থলমাইনগুলো পুঁতে রেখেছিল।

সিউল এ ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

গত সপ্তাহে সীমান্তের সুনির্দিষ্ট অবস্থান পারস্পরিকভাবে নিশ্চিত করা এবং দুই দেশের মধ্যে সামরিক যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেয় সিউল। তবে পিয়ংইয়ং এখনো এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

বরং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের আলোচনার উদ্যোগকে উপহাস করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতার প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং। তিনি এ প্রস্তাবকে ‘প্রহসনের চূড়ান্ত পর্যায়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ ঘিরে নতুন উদ্বেগ

এদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে এ ধরনের বৈঠক থেকে দক্ষিণ কোরিয়া বাদ পড়তে পারে এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক আলোচনা নিয়ে সিউলের উদ্বেগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক মন্তব্যে ট্রাম্প শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে কিছুটা সংযত অবস্থান দেখালেও কিম জং উনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো বলে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে, চলতি বছরের অক্টোবরে কিমের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনার কথা ট্রাম্পের ইঙ্গিত দেওয়ার পরদিনই উত্তর কোরিয়া কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।

উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের অবসান ঘটে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে। তবে দুই কোরিয়ার মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক শান্তিচুক্তি হয়নি। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে

সর্বশেষ