সোমবার (২ নভেম্বর) কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত মহেশখালীতে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে রি-গ্যাসিফায়েড এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ বন্ধ থাকবে। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণের কারণে টার্মিনালটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে। এতে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেজিডিসিএলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সময় তাদের অধিভুক্ত এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের সমস্যায় পড়বেন। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
কেজিডিসিএলের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলে তাদের মোট গ্রাহক ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৭৪ জন। এর মধ্যে ক্যাপটিভ পাওয়ার খাতের গ্রাহক ২০৪টি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ৯৬২টি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, সার, বাণিজ্যিক ও আবাসিক খাতের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক রয়েছে।
গ্যাসের চাপ কমে গেলে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হতে পারে শিল্প ও উৎপাদন খাতে। বিশেষ করে যেসব কারখানা নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তাদের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্না এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটতে পারে।
কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। এ চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করা হয় মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ করা গ্যাসের মাধ্যমে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ১০৫ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে সেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৯২ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সামিটের টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ওই উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাবে না।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আমদানি করা এলএনজি টার্মিনালে প্রক্রিয়াজাত করে গ্যাসে রূপান্তরের পর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোনো একটি টার্মিনালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হলে বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ানো না গেলে বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চার দিনের রক্ষণাবেক্ষণকাজ শেষ হলে শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে সামিটের টার্মিনালের মাধ্যমে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ধীরে ধীরে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

