চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা মুসফিরাতের (২০) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্ঘটনাস্থলেই। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তার জানাজায় অংশ নেন সহপাঠী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
মাইশার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুর্ঘটনার প্রতিবাদ এবং আট দফা দাবিতে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। এতে সড়ক ও রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। অবরোধের মধ্যেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মহাসড়কে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত আট দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি লরির ধাক্কায় ৮ নম্বর রুটের একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর বাসটি পড়ে। এতে বাসের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন মাইশা। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মাইশা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের কড়তাকিয়া এলাকায়।
মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং মহাসড়কে জানাজার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

