তাহসিফ হত্যা: দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার সন্দেহ রাষ্ট্রপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে তাহসিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আগেও আদালতে সন্দেহের কথা জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে তাহসিফের বন্ধু ও স্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শুনানিতে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।

শুনানিতে তিনি বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার এনায়েত করিম চৌধুরী ও ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলাম এবং দীপের বক্তব্যে একই ধরনের উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে রাষ্ট্রপক্ষের সন্দেহ। তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দীপের বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। এ কারণে দেশি-বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। গত ৩১ অক্টোবর দীপের প্রথম দফা রিমান্ড শুনানিতেও একই সন্দেহের কথা আদালতকে জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার।

মঙ্গলবার চার দিনের রিমান্ড শেষে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনে আটটি কারণ উল্লেখ করা হয়।

রিমান্ডের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপ বাসা থেকে তাহসিফকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাঁরা একটি বার ও রেস্তোরাঁয় যান। সেখান থেকে টঙ্গীর মাজার বস্তি হয়ে তুরাগ নদীর পাড়ে পৌঁছান। একপর্যায়ে দুজন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাহসিফ নদীতে পড়ে যান বলে দাবি করা হলেও দীপ এরপর বাসায় ফিরে যান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্ন, বন্ধুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দীপের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়নি এবং বিষয়টি কাউকে জানানোর উদ্যোগও নেননি তিনি। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেননি বলেও দাবি করেন আইনজীবী। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তাঁকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তবে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের আগে থেকেই তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য তৈরি হয়। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। পরে তাঁরা একসঙ্গে সময় কাটান। দীপের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের খাবার শেষে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাঁরা আলাদা হয়ে যান। তবে কীভাবে তাহসিফ তুরাগ নদীতে গেলেন, সে বিষয়ে তদন্তে আরও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এ ঘটনায় ওই রাতেই দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। দীপ ওই এলাকায় তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন। পরে পুলিশ তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এ মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। গত রোববার তাহসিফের বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। ঘটনার দিন রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছিল বলে জানা গেছে।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না-এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা। তবে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা কিংবা শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণের কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের সন্দেহ ও অভিযোগই উঠে এসেছে। তদন্তে এসব দাবির সত্যতা প্রমাণিত হওয়া বাকি।

সর্বশেষ