নিজস্ব প্রতিবেদক: ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে উত্তপ্ত গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২৫ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। মাঠে রয়েছেন বিজিবি, আনসার ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা।
বুধবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাইন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবির সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আগে ১১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ১২ প্লাটুন করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ প্লাটুন আনসার ও আট প্লাটুন এসআরবি মোতায়েন রয়েছে। সব মিলিয়ে ২৫ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছে।
প্রশাসনের এই কর্মকর্তা জানান, আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, শিল্পকারখানা ও সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিজিবি সদস্যরা ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছেন। অন্য বাহিনীর সদস্যরাও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।
এদিকে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বুধবার সকাল পৌনে ৮টা পর্যন্ত গাজীপুরের কোনো মহাসড়ক বা আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিকদের অবস্থান নেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও শিল্পকারখানার আশপাশে নিরাপত্তা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

আন্দোলনের পেছনে কয়েক দিনের সংঘর্ষ ও সহিংসতা
ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এতে ওই দুই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ বক্স, পুলিশের গাড়ি ও একটি কারখানার গুদামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় অনেক কারখানা কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রেখে ছুটি ঘোষণা করে।
এদিকে আন্দোলন চলাকালে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণের সময় মারধরের শিকার হন তৌফিক নামের এক শ্রমিক। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শ্রমিক আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে নতুন করে যাতে কোনো সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ কিংবা সড়ক অবরোধের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য শিল্পাঞ্চলে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। একদিকে শ্রমিকদের মজুরির দাবির বিষয়টি, অন্যদিকে শিল্পকারখানা ও জননিরাপত্তা—দুই দিক সামাল দিতে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

