নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ধারণা দিতে এবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য খুলছে বঙ্গভবনের দুয়ার। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন পরিদর্শন করতে পারবে। এ লক্ষ্যে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণসংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
সম্প্রতি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে নীতিমালাটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন পরিদর্শনের জন্য মোট দেড় ঘণ্টা সময় পাবে। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টায় তাদের বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে হবে। পরিদর্শনের শুরুতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়া হবে তোশাখানা জাদুঘরে। সেখানে বঙ্গভবনের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও প্রদর্শন করা হবে।
এরপর শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের মূল ভবনের সামনে ছবি তোলার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি ঘুরে দেখবে ঐতিহাসিক এয়ার রেইড শেল্টার ও হরিণপার্ক। এসব স্থান পরিদর্শনের মধ্য দিয়েই শেষ হবে তাদের বঙ্গভবন ভ্রমণ। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিংবা বিশেষ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা থাকবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
ভ্রমণে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে নীতিমালা। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বনিম্ন ৩০ জন এবং সর্বোচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে। তাদের সঙ্গে তিন থেকে চারজন শিক্ষক অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি থাকতে পারবেন। পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাক পরতে হবে।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বঙ্গভবনের ভেতরে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, স্মার্টঘড়ি কিংবা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যাগও ভেতরে নেওয়া যাবে না।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস বা অন্য কোনো যানবাহন বঙ্গভবনের অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি পাবে না। নির্ধারিত স্থানে যানবাহন রেখে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হেঁটে বঙ্গভবনে প্রবেশ করতে হবে।
পরিদর্শনের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য ছবি সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ছবিগুলো সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরবরাহ করবে। এ জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সঙ্গে একটি পেনড্রাইভ নিয়ে যেতে হবে।
নতুন এ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা সরাসরি দেখার পাশাপাশি দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।

