যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলের বিরোধী নেতারা। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য নেতানিয়াহুকেই দায়ী করছেন তারা। একই সঙ্গে এই ইস্যুকে সামনে রেখে দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের প্রচেষ্টা জোরদার করছেন বিরোধীরা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এই ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের বিষয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই পরিবর্তন নেতানিয়াহুর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহুর নীতির কারণে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থনে বিভাজন তৈরি হয়েছে। ফলে দেশটির দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ছে।
ইসরায়েলের ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান বলেছেন, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করেছে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের কাছেই নেতানিয়াহু ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।
অন্যদিকে বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদের মতে, নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ অবস্থায় নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মনে করছেন বিরোধীরা।
এর আগে ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। তবে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের জন্য সরকার গঠনের পথ এখনো পুরোপুরি মসৃণ হয়নি।
এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) ও বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) অনুষ্ঠিতব্য এসব বৈঠকের পর কোনো একজন নেতাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদি সোমার মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা নতুন মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলের বিষয়ে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠোর অবস্থান নিতে পারে। এতে নেতানিয়াহু সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা এই পরিস্থিতিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা এবং বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছেন।
সূত্র: রয়টার্স

