সার বিতরণ ও বিক্রিতে অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে ডিলারশিপের লাইসেন্স অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া বা হস্তান্তরের ঘটনায় তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। রাজশাহী বিভাগের আট জেলার কৃষি উৎপাদন, সার ও বীজ সরবরাহ, সেচ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।
সার ডিলারদের উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বরাদ্দ করা সার উত্তোলন করতে হবে। কোনো ডিলার নির্ধারিত সময়ে সার উত্তোলনে ব্যর্থ হলে তাকে ডিফল্টার হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘন কিংবা সার বিতরণে অনিয়মের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে সার বিক্রির দোকান প্রতিদিন সকাল ৯টার মধ্যে খুলতে হবে। বিকেল ৫টা থেকে ৬টার আগে দোকান বন্ধ করা যাবে না। কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সার সরবরাহ অব্যাহত রাখতে ডিলারদের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলার নির্দেশ দেন তিনি।
সীমান্ত দিয়ে সার পাচারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে। প্রতিবেশী দেশগুলোতে সারের দাম বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে সার পাচারের প্রবণতা রয়েছে। মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইউরিয়া এবং ভারত সীমান্ত দিয়ে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার পাচারের ঘটনা ঘটে। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবিকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জমির উর্বরতা ধরে রাখতে সুষম সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করতে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে মাছ চাষে ব্যবহৃত সারের পরিমাণ ও প্রয়োগপদ্ধতি সম্পর্কে মৎস্যচাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়লে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাউল আলম সরকারের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সাঈদ চাঁদ।
সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম খান, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির এবং রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এ ছাড়া রাজশাহী বিভাগের আট জেলার সার ডিলার সমিতির নেতারা ও গণমাধ্যমকর্মীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সাত জেলার জেলা প্রশাসক অনলাইনে যুক্ত হয়ে নিজ নিজ এলাকার সার সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ের তদারকি ও সার বিতরণের চিত্র মন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। সভায় সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ডিলার সমিতির প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

