যুক্তরাষ্ট্রের চার অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় জয় পেলেন চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য অর্জন এসেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত চার রাজনীতিকের। দেশটির নিউ হ্যাম্পশায়ার, জর্জিয়া, কানেকটিকাট ও নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হয়েছেন তারা। তাদের এই সাফল্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী চার রাজনীতিকের মধ্যে তিনজন ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং একজন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ছিলেন। ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও নিজ নিজ আসনে জয় নিশ্চিত করেছেন তারা।

নির্বাচনে পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হিসেবে নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদে সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের শেখ রহমান জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ৫ নম্বর আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চমবারের মতো জয় পেয়েছেন।

এ ছাড়া কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ৪ নম্বর আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন চাঁদপুরের মাসুদুর রহমান। ডেমোক্র্যাট দলের এই রাজনীতিক টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। একই দলের প্রার্থী গাজীপুরের হাসিব ফাতেমি নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ১৮ নম্বর আসনে জয়লাভ করেছেন।

এর আগে ২০২৪ সালে নোয়াখালীর সাদ্দাম আজলান সালিম ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটের ৩৭ নম্বর আসনে নির্বাচিত হন। তার প্রতিনিধিত্ব করা আসনে আগামী বছর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষেই ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকদের বিজয়কে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন প্রবাসীরা।

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের রাজনীতিক শাহজাহান শেখ বলেন, গত দুই বছরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া ভোটের মাধ্যমে জানিয়েছেন মার্কিন নাগরিকরা। তার মতে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করাই গণতন্ত্রের অন্যতম সৌন্দর্য।

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড গ্লোবাল ক্যাম্পাসের অধ্যাপক ফয়জুল ইসলাম মনে করেন, ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্তৃত্ববাদী আচরণে অসন্তুষ্ট হয়ে ভোটাররা নির্বাচনে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এতে রিপাবলিকান পার্টির জনসমর্থন দুর্বল হওয়ার বিষয়টিও প্রতিফলিত হয়েছে।

লং আইল্যান্ডের ব্যবসায়ী আখতার হোসেন বাদল বলেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, অভিবাসনবিরোধী নীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। এমনকি রিপাবলিকান দলের একাংশও এসব বিষয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন।

কুইন্সের রাজনীতিক খোরশেদ খন্দকার বলেন, ট্রাম্প যেসব প্রার্থীর সমালোচনা করেছিলেন, নির্বাচনে তাদের জয়ও ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। আগামী দুই বছরে ডেমোক্র্যাটরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলটির সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

তবে নির্বাচনের ফলাফলকে শুধু ডেমোক্র্যাটদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ফল হিসেবে দেখছেন না মেরিল্যান্ডের লেখক ও অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী আশরাফ আহমেদ। তার মতে, এবারের ভোটে ট্রাম্পের প্রতি সাধারণ মানুষের অসন্তোষই বেশি প্রতিফলিত হয়েছে। কংগ্রেসের দুই কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ডেমোক্র্যাটরা জনগণের অর্থনৈতিক সংকট কতটা মোকাবিলা করতে পারেন, সেটিই হবে তাদের জন্য বড় পরীক্ষা।

আশরাফ আহমেদ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব বেশি নেই।

সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত হয়েছে। অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে চার বাংলাদেশির এই জয়কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও অর্জনের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা

সর্বশেষ