যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ও একটি টাগবোটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের চেষ্টার সময় পৃথক দুটি ঘটনায় এসব জাহাজে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ অংশে একটি তেলবাহী ট্যাংকার নির্ধারিত পথের বাইরে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেটি মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে জাহাজটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এ ছাড়া প্রণালির পূর্বাঞ্চলে নির্ধারিত নৌপথ দিয়ে বের হওয়ার সময় আরেকটি সুপারট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করতে একটি টাগবোট সেখানে পৌঁছালে সেটিতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
তবে অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানায়নি ইরানের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর নাম, জাতীয়তা এবং আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইরানের এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি সামরিক ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, তাদের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট ড্রোন দুটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দখল করে সেগুলো অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের কাছে হরমুজ প্রণালিতে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে এখানে সামরিক সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারিতে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স

