জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্ব ও দলটির সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি মন্তব্য করেছেন, নাহিদ ইসলাম এখন কোনো কর্মসূচির ডাক দিলেও তাতে ১০০ জন মানুষ জড়ো হবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এমন মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, নাহিদ ইসলাম আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেও গার্মেন্টস শ্রমিকেরা কাজে ফিরে গেছেন। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নাহিদের ডাকে এখন আর ১০০ লোকও জড়ো হবে না। এ পরিস্থিতি থেকে নাহিদ নিশ্চয়ই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানের পর নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থান এবং এনসিপির সাংগঠনিক দুর্বলতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর ভাষ্য, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থানের এমন পরিবর্তন কেন ঘটল এবং কীভাবে এনসিপি একটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হলো, তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
পোস্টে নাহিদ ইসলাম ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়ার অভিযোগও আনেন তিনি। রাশেদ খাঁনের মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শুধু একটি পক্ষের অবদান ছিল না। নিজেদের অবদানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রবণতা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে।
এনসিপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও দলত্যাগের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তিনি প্রশ্ন করেন, নাহিদ ইসলামের সঙ্গে কারা রয়েছেন এবং কারা তাঁকে ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, সেটি তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন কি না। সামান্তা শারমিনের মতো নেত্রীকে ধরে রাখতে না পারার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি নাহিদের নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়েও সমালোচনা করেন।
এদিকে, রাশেদ খাঁনের এই মন্তব্যের দিনই এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেন তিনি।
বিবৃতিতে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন সামান্তা শারমিন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট, দলের আদর্শ থেকে সরে আসা, নারীর রাজনৈতিক অধিকার উপেক্ষা এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাবের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন তিনি।
সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ এবং নাহিদ ইসলামের নেতৃত্ব নিয়ে রাশেদ খাঁনের সমালোচনা—দুটি ঘটনা এনসিপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।

