আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের রাজনীতিতে সরকার গঠন নিয়ে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। সদ্য অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট লিস্ট। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জোটটি জানিয়েছে, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়ার জন্য তারা প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সুপারিশ করবে।
জয়েন্ট লিস্টের এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্টের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সুপারিশ জানানো হবে। এর আগে আরেকটি আরব নেতৃত্বাধীন দল রা’আমও আইজেনকটের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। ফলে সরকার গঠনের লড়াইয়ে বিরোধী শিবিরের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তাদের সমর্থন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের হিসাব অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আমের সমর্থন মিলিয়ে আইজেনকটের পক্ষে ৫৬ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রত্যাশিত। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। ফলে দুই শিবিরের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি না হলেও সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে বিরোধীরা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তবে নেতানিয়াহুর জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অতি রক্ষণশীল রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান। ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি আসনের মধ্যে চারটির নিয়ন্ত্রণে থাকা দেগেল হা তোরাহ জানিয়েছে, তারা কোনো প্রার্থীর পক্ষেই সমর্থনের সুপারিশ করবে না।
হারেদি সম্প্রদায়ের পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আইন পাসে নেতানিয়াহু সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে দলটি এ অবস্থান নিয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর জোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল গ্রহণের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। বুধবার তিনি রিলিজিয়াস জায়োনিজম, জেহুত, শাস ও ইসরায়েল বেইতেনু দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে তিনি সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করবেন।
প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। এ সময়ের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থী সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আগামী বছরের শুরুতেই নতুন করে ভোট আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচনের পর ইসরায়েলের সরকার গঠনের সমীকরণে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের সমর্থন নিয়ে আইজেনকট সরকার গঠনে সফল হন কি না, নাকি রাজনৈতিক সমঝোতায় আবারও এগিয়ে যান নেতানিয়াহু—এখন সেই অপেক্ষায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন।

