বিউটির ধর্ষক বাবুল, খুনি তার বাবা: পুলিশ

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের বিউটি আক্তারকে বাবুল ধর্ষণ করলেও তাকে তার বাবা হত্যা করিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিউটির বাবা ছায়েদ আলীর জবানবন্দি উদ্ধৃত করে শনিবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা একথা জানান।

- Advertisement -

এর আগে বিউটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বাদী ছায়েদ আলী শনিবার আদালতে জবানবন্দি দেন।

পাঁচ ঘণ্টা ধরে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বিউটিকে নানার বাড়ি থেকে নিয়ে এসে কীভাবে খুনিদের হাতে তুলে দিয়েছেন তার বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জবানবন্দির পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

শনিবার বিকালে নিজ কার্যালয়ে ওই ব্রিফিংয়ে সুপার বলেন, স্বাধীনতার মাসে লাল সবুজের পতাকায় বিউটির হত্যা নিয়ে যে পোস্টটি সারাদেশে ভাইরাল হয়েছে তদন্তে তার বিপরীত চিত্র পাওয়া গেছে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি উদ্ধৃত করে পুলিশ সুপার বলেন, বিউটির ধর্ষণকারী বাবুল মিয়া অলিপুরে প্রাণ কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসাবে চাকরি করেন। তার মা ইউপি সদস্য হওয়ায় এলাকায় তার অর্থ এবং প্রভাব রয়েছে।
বাবুলকে দুশ্চরিত্রের আখ্যা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এর আগে তিনি এক প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ে করেন। পরে বিউটির ওপর তার দৃষ্টি পড়ে। তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ের প্রলোভন দেখান বাবুল। পরে অলিপুর এলাকায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত সেখানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করেন তারা।
“৯ ফেব্রুয়ারি বিউটিকে প্রাণ কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সেখানে নিয়ে গেলে খবরটি জানতে পারেন পাশের আরএফএল ফ্যাক্টরিতে চাকরি করা বিউটির মা হুসনা বেগম। তিনি এবং ছায়েদ সেখানে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসেন।”

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় সালিশের মাধ্যমে নিস্পত্তির চেষ্টা করা হলে বিউটিকে বিয়ে করতে বাবুল অস্বীকৃতি জানায় বলে জানান পুলিশ সুপার।

তিনি বলেন, পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে অপহরণসহ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন বিউটির বাবা ছায়েদ। মামলাটি গত ৪ মার্চ শায়েস্তাগঞ্জ থানায় নথিভুক্ত এবং ১২ মার্চ বিউটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

“বাবুল বিয়ে করলে মামলা তুলে নিবে বলেও বিউটি জবানবন্দিতে জানায়।”

পরে বিউটিকে লাখাই উপজেলার গুণিপুর গ্রামে নানা বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, এই সুযোগে ফন্দি আঁটেন ইউপি নির্বাচনে বাবুলের মায়ের কাছে হেরে যাওয়া আসমা আক্তারের স্বামী ময়না মিয়া।

গত ইউপি নির্বাচনে ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন করে বাবুলের মা কলম চান বিবির কাছে আওয়ামী লীগ নেতা ময়না মিয়ার স্ত্রী আসমা আক্তার হেরে যান বলে জানান পুলিশ সুপার।————-

সর্বশেষ