মো.মুক্তার হোসেন বাবু : চট্টগ্রাম মহানগরীতে ছুরিকাঘাতে খুন হওয়া আবু জাফর অনিক (২৬) হত্যার দুই আসামিকে ভারত থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গত শুক্রবার ফ্রি স্ট্রিট স্কুল এলাকা থেকে অনিক হত্যা মামলার প্রধান আসামি মহিউদ্দিন তুষার (৩০) এবং এখলাস (২২) গ্রেফতার করে। মহিউদ্দিন তুষার মামলার প্রধান ও এখলাসুর রহমান ১০ নম্বর আসামি। এর আগে মহানগরীর চট্টেশ্বরী পল্টন রোডে গাড়ির হর্ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে অনিক খুন হন। এদিকে গত ২৫ জুন বেনাপোল সীমান্তে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে গ্রেফতারকৃত দুইজনকে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানালেন ন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মোস্তাইন হোসাইন। তিনি বলেন, দুই আসামি মামলার পরপর ভারতে চলে গিয়েছিল। কলকাতা পুলিশ তাদের ভিসা বাতিল করে আটক করেছে। তাদের যশোরের বেনাপোল সীমান্তে বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সিএমপির একটি দল তাদের নিয়ে বেনাপোল থেকে চট্টগ্রাম রওনা হয়েছে। তাদের চট্টগ্রামে আনার পর কাল (আজ) মঙ্গলবার সকালে পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
জানা গেছে, গত ১৭ জুন রাতে নগরীর চট্টেশ্বরী পল্টন রোডে গাড়ির হর্ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে খুন হন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. নাছির উদ্দিনের ছেলে আবু জাফর অনিক (২৬)। আবু জাফর অনিক পেশায় গাড়ি চালক। সেদিন বিকেল ৫টার দিকে গাড়ির হর্ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে আবু জাফর অনিকের ছোট ভাই আবু হেনা রনিকের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় কিছু যুবকের। পরে রাত ৮টার দিকে সেই সমস্যা সমাধানে গিয়েছিলেন বড়ভাই ও বাবা। সেখানে বাবার সামনে অনিককে ছুরিকাঘাত করে মহিউদ্দীন ত্ষুার ও তার সহযোগিরা। পরে এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন অনিকের বাবা মো. নাছির উদ্দিন। মামলার আসামিরা হলেন, মহিউদ্দীন তুষার (৩০), মিন্টু (৩২), ইমরান শাওন (২৬), ইমন (১৬), শোভন (২৪), রকি (২২), অপরাজিত (২২), অভি (২১), বাচা (২২), এখলাস (২২), দুর্জয় (২১) এবং অজয় (২১)।
এদিকে ঘটনার দিন পুলিশ জানিয়েছিল, ওইদিন বিকালে অনিকের ছোট ভাই রনিক ব্যাটারি গলিতে মোটর সাইকেল নিয়ে ঢোকার সময় জোরে হর্ন দেয়। এ নিয়ে স্থানীয় কয়েকজনের বাকবিতণ্ডা ও মারামারি হয়। ওই সময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ওইদিন কোতায়ালি থানার ওসি মো. মহসিন জানিয়েছিলেন, ওই এলাকার তুষার, ইমনসহ ১০-১২ জন জোটবদ্ধ হয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টেশ্বরী মোড়ে আসেন। সেখানে অনিকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় অনিকের বাবা নাসিরও সেখানে ছিলেন। এক পর্যায়ে অনিককে ছুরিকাঘাত করে তারা।
হামলাকারীরা নিজেদের যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করলেও স্থানীয় কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য, তারা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। এলাকায় তুষারের নেতৃত্বে তারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করে বেড়ায়। আর কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাসান মনসুরের দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন নেতার পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে তা ফেইসবুকে প্রচার করে বিভিন্ন জনের কাছে নিজেদের নেতা পরিচয় দেয় বলে তিনি জানান।