সিরাজুল আলম টিপু : দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম চট্টগ্রামের হালদা নদীকে ‘জাতীয় নদী’ ঘোষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব মোঃ নজিবুর রহমান’র প্রতি গতকাল মঙ্গলবার এক পত্রের মাধ্যমে আহবান জানিয়েছেন। পত্রে তিনি বলেন-দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে স্মরণাতীত কাল থেকে চট্টগ্রামের হালদা নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। রুই, কাতলা, মৃগেল ইত্যাদি ইন্ডিয়ান কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক এই উৎস শত শত বছর ধরে বৃহত্তর জনগোষ্ঠির আমিষের যোগান দিয়ে আসছে। কয়েক হাজার মৎস্যজীবী হালদা থেকে ডিম ও পোনা সংগ্রহ করে তা বিক্রির মাধ্যমে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে। এই পোনা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়ে বাঙালির মাছ-ভাতের সুপ্রাচীন ঐতিহ্য লালনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। হালদার কল্যাণে শত শত কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ উৎপাদিত হয়। জাতীয় অর্থনীতিতে বছরে হালদার প্রত্যক্ষ অবদান প্রায় ৮শত কোটি টাকা এবং পরোক্ষ অবদান প্রায় ৪হাজার কোটি টাকা যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করে থাকে। অতি সম্প্রতি পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় হালদার প্রাকৃতিক প্রজনন পরিবেশের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন কল কারখানার নিষ্কাশিত বর্জ্য, বালি উত্তোলন, নদী দখল, নালা-নর্দমার দূষিত পানির সংমিশ্রণ এবং নানাবিধ মনুষ্য সৃষ্ট দূষণের কারণে হালদার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাবে মাছের জীবন ধারণ দূরূহ হয়ে পড়ছে। যার ফলে মা-মাছ মরে ভেসে উঠার দৃশ্য এখন নিত্য ঘটনা। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে অচিরেই এই প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে বলে চেম্বার সভাপতি পত্রে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে অনেক প্রকল্প ও কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে যা প্রশংসনীয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে হালদা নদীকে রক্ষা করা জাতীয় স্বার্থে অত্যন্ত জরুরী। তাই দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠির আমিষ সরবরাহের উৎসস্থল নির্বিঘ্নে রাখার প্রয়োজনে হালদা নদী রক্ষায় এই নদীকে ‘জাতীয় নদী’ হিসেবে ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবী বলে চেম্বার সভাপতি মনে করেন।
মাহবুবুল আলম অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও ঐতিহ্য বিবেচনাপূর্বক পরিবেশ দূষণ, দখল ইত্যাদি অপ্রত্যাশিত ও নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র রক্ষায় হালদা নদীকে ‘জাতীয় নদী’ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবের নিকট বিশেষ অনুরোধ জানান।