অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সরকার পতনের অলআউট আন্দোলন শুরু করতে চায়, বিএনপি

নতুন আলটিমেটাম দিয়ে সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের শেষ ধাপ শুরু করতে চায় বিএনপি। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে ঢাকার মহাসমাবেশ করে সরকারকে শেষবারের মতো সময় বেঁধে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে সরকার দাবি না মানলে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সরকার পতনের অলআউট আন্দোলন শুরু করতে চায় দলটি।

- Advertisement -

এর আগে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল বিএনপি। এ সময়ে সরকার দাবি না মানলেও বিএনপি এ নিয়ে নতুন কোনো কর্মসূচি দেয়নি। ফলে রাজনৈতিক এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনাও হয়। এরপরেও আলটিমেটাম দিয়ে সরকার পতনের চূড়ান্ত ধাপের আন্দোলন শুরু করা নিয়ে সর্বশেষ দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে বৈঠকে মতানৈক্য হয় বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, দু-একজন নেতা আলটিমেটামের বিপক্ষে থাকলেও অধিকাংশই মত দিয়েছেন, শেষবারের মতো সময় দিয়েই চূড়ান্ত আন্দোলনে যাওয়া উচিত। তবে চলমান আন্দোলন কর্মসূচিতে কোনো বিরতি না দেওয়ার পক্ষে সব নেতা একমত হয়েছেন।

সূত্রমতে, চলমান চূড়ান্ত আন্দোলনকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যার প্রথমটি চট্টগ্রামের রোডমার্চের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হবে। প্রথম ধাপের কর্মসূচি শেষে আগামী ৭ অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় ধাপের আন্দোলন শুরু হতে পারে। যা শেষ হতে পারে ১৮ অক্টোবর আলটিমেটামের মধ্য দিয়ে।

এ সময়ে ঢাকায় মহাসমাবেশ ছাড়াও কয়েকটি সমাবেশ, পদযাত্রা ও রোডমার্চে দলীয় কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতেও কয়েকটি কর্মসূচি থাকবে। ২০ অক্টোবর থেকে দুর্গাপূজার জন্য পাঁচ দিন দলীয় কর্মসূচিতে বিরতি দিবে বিএনপি। এই সময়টা সরকারকে দাবি মানার জন্য সময় বেঁধে দিতে চায় বিএনপি। এ সময়ে সরকার কোনো সাড়া না দিলে দুর্গাপূজার পর চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে চূড়ান্ত ও শেষ ধাপের ‘কঠোর কর্মসূচি’ শুরু করতে চায় দলটি।

সূত্র মতে, চলতি অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় এক দফার যুগপৎ আন্দোলন বেগবান করবে বিএনপি। এরপর আগামী ১৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। ঢাকার এই সমাবেশে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা এনে ব্যাপক শোডাউন করে সরকারকে পদত্যাগে সময়সীমা বেঁধে দেবে তারা। এ সময়ের মধ্যে যুব ও ছাত্র কনভেনশন করতে চায় দলটি। ছাত্র কনভেনশনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের বটতলায় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ১৫টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্রঐক্য’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে। এক দফার চূড়ান্ত আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পৃক্ত করতে চায় বিএনপি ও যুগপতের শরিকরা। তারা মনে করছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকে ছড়িয়ে দিতে না পারলে চলমান আন্দোলনে চূড়ান্ত সফলতা পাওয়া কঠিন। এদিকে যুব কনভেনশন সফলে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যুব সংগঠনের সমন্বয়ে শিগগির ‘যুব ঐক্যজোট’র আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে। আর ১৮ অক্টোবরের মধ্যে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশন (সিইসি) বরাবর স্মারকলিপি দিতে পারে বিএনপি। স্মারকলিপিতে পুলিশকে চলমান হামলা-মামলা-গ্রেপ্তার বন্ধ এবং ইসিকে সম্ভাব্য এক তরফা নির্বাচনের উদ্যোগ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে ঢাকামুখী রোডমার্চ, গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় ঘেরাও, অবরোধ এবং হরতাল করার পরিকল্পনা আছে বিএনপির। এর মধ্যে এ মাসের শেষ সপ্তাহে রাজধানীমুখী রোডমার্চ, যা প্রতিদিন ঢাকার আশপাশের একটি জেলা থেকে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসবে। সেখানে জনসভা হবে। এরপর সচিবালয়, নির্বাচন কমিশন, সংসদ ভবন, বিচারাঙ্গন, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করা হতে পারে। তারপর প্রয়োজনে সড়ক ও নৌপথ অবরোধের মতো কর্মসূচিতে যেতে পারে দলটি। হরতালের পক্ষে নন দলের অধিকাংশ নেতা। তবে প্রয়োজনে সেই পথেও হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আগামী সংসদ নির্বাচনের তফসিল, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যর ওপর নির্ভর করে যে কোনো সময় কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

আন্দোলন কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন খান বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন শেষপর্যায়ে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আরও কর্মসূচি আসবে। সরকারের বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সর্বশেষ