মো.মুক্তার হোসেন বাবু:: ট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রার্থীদের দম ফেলার ফুরসত নেই। শেষ মুহূর্তে গণসংযোগ ও পথসভায় জমে উঠেছে ভোটের মাঠ।এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কোন কোন প্রার্থী মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসবেন এ নিয়ে চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ। এদিকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের একটি আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। আসনটি হচ্ছে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)। এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান (ঈগল) ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটনের (ট্রাক) মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১১টি আসনে দ্বিমুখী ও একটি আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রামের যে ১১টি আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে সেগুলো হচ্ছে- চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে মাহবুব উর রহমান রুহেল (নৌকা) এর সাথে দ্বিমুখী লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াসউদ্দিনের (ঈগল)। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে খাদিজাতুল আনোয়ার সনির (নৌকা) সাথে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হোসাইন মুহাম্মদ আবু তৈয়বের (তরমুজ) মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতার (নৌকা) সাথে দ্বিমুখী লড়াই হবে স্বাচিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর (ঈগল)। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে এসএম আল মামুন (নৌকা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী লায়ন মো. ইমরানের (ঈগল) মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (লাঙ্গল) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরীর (কেটলি) মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের (কেটলি) সাথে দ্বিমুখী লড়াই হবে সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা বিজয় কুমার চৌধুরীর (ফুলকপি)। চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী, পাহাড়তলী, হালিশহর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর (নৌকা) সাথে দ্বিমুখী লড়াই হবে সাবেক সিটি মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ মনজুর আলমের (ফুলকপি)। চট্টগ্রাম-১১ (পতেঙ্গা-বন্দর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ লতিফের (নৌকা) সাথে দ্বিমুখী লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমনের (কেটলি)। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরীর (নৌকা) সাথে দ্বিমুখী লড়াই হবে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর (ঈগল)। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামী চৌধুরীর (নৌকা) সাথে দ্বিমুখী লড়াই হবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জব্বার চৌধুরীর (ট্রাক)। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর (নৌকা) সাথে দ্বিমুখী লড়াই হবে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মোতালেবের (ঈগল)।
অন্যদিকে ৪টিতে একেবারে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। চট্টগ্রামের যে ৪টি আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তারা হলেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী (নৌকা), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ড. হাছান মাহমুদ (নৌকা), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (নৌকা) ও চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (নৌকা)। বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। দলের নেতাকর্মী ও সমর্থক একাট্টা হয়ে তাদের জন্য কাজ করছেন। এতে তাদের বিজয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে উঠেছে বলে স্ব-স্ব আসনের ভোটারেরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে এসব আসনে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় তেমন একটা প্রতিদ্বন্দি¦তা গড়ে তুলতে পারেনি। তাই অনেকটা পরিষ্কার হয়ে গেছে আগামী ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে এসব আসনে নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ের পথে রয়েছেন।