মো.মুক্তার হোসেন বাবু :: সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে গত ১২ মার্চ মধ্য দুপুরে যে উৎকণ্ঠা শুরু হয়, তার অবসান ঘটলো নতুন বাংলা বছরের প্রাক্কালে। জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পেল এমভি আবদুল্লাহ আর ২৩ বাংলাদেশি নাবিক।বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ৩টার দিকে এমভি আবদুল্লাহ তার গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের দিকে রওনা হয়। এদিকে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হওয়া জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ’র ২৩ নাবিক কবে নাগাদ, কিভাবে দেশে ফিরবেন তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। তবে জাহাজটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিকপক্ষ। নাবিকরা সেই জাহাজে করে অথবা দুবাই থেকে সরাসরি বিমানেও ফিরতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে আরও অন্তত দশদিন সময় লাগতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
জাহাজের মালিকপক্ষ বলছে, ব্রিটিশ, আমেরিকা, কেনিয়া এবং সোমালিয়া- এ চার দেশের আইন মেনে মুক্তিপণ দিয়েই ২৩ নাবিক ও এমভি আবদুল্লাহ জাহাজকে মুক্ত করা হয়েছে। তবে মুক্তিপণের পরিমাণ কোনোভাবেই প্রকাশ করেনি তারা।
এমভি আবদুল্লাহ ও ২৩ নাবিক মুক্ত হওয়ার পর গত রোববার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন জাহাজটির মালিকপক্ষ কবির স্টিল রি-রোলিং মিলস (কেএসআরএম) গ্রুপ ও পরিচালনা প্রতিষ্ঠান এসআর শিপিংয়ের কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলনে এসআর শিপিংয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিম জাহাজটি সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ার পর থেকে মুক্ত হওয়া পর্যন্ত সার্বিক বিষয় তুলে ধরেন।
মেহেরুল করিম বলেন, জাহাজটিকে জিম্মি করার পর থেকে কোথায় কী পজিশন, জাহাজের লোকেশন সবসময় আমরা নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্র্যাকের মধ্যে রেখেছিলাম। উপকূলে নেওয়ার পরে জলদস্যু একজন কমান্ডার থাকে, ওনার সঙ্গে আমাদের টাইম টু টাইম যোগাযোগ হয়। আমাদের একটাই কথা ছিল, নাবিকরা কেমন আছেন। নাবিকদের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত কথা হতো। পরিবারের সঙ্গেও তাদের নিয়মিত কথাবার্তা হয়েছে। আমরা জানতাম, নাবিকরা সবাই সুস্থ আছেন, অক্ষত আছেন। সর্বশেষ আমরা যখন মুক্তির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করি, দুইদিন আগে ভিডিও পাঠাতে বলি যে, সকল নাবিক কেমন আছে, কী অবস্থায় আছেন। ভিডিও পাঠিয়ে আমাদের সর্বশেষ অবস্থা জানানো হয়। এভাবে ৩০টা দিন আমরা যোগাযোগ রেখেছি। শিপিং সেক্টরের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখার মাধ্যমে মুক্তির প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মুক্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ইন্টারন্যাশনাল শিপিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমাদের ইন্টারন্যাশনাল আইন মেনেই এ ব্যবসা করতে হয়। উদ্ধার প্রক্রিয়াটাও ইন্টারন্যাশনাল ল অনুযায়ী একদম লিগ্যালি হয়েছে। আমাদের আমেরিকার আইন মানতে হয়েছে, বৃটিশ আইন, কেনিয়া, এমনকি সোমালিয়ার আইনও মানতে হয়েছে। এর বেশি আমরা কিছুই শেয়ার করতে পারব না।
গত শনিবার ভোররাত ৩টার দিকে মুক্ত হওয়ার চূড়ান্ত বার্তা পান জানিয়ে তিনি বলেন, ৯টা বোটে ৬৫ জন জলদস্যু চারপাশ ঘিরে ছিল। তারা চলে যাবার পর নাবিকদের সঙ্গে আমাদের ভিডিওকলে কথা হয়েছে। এসময় তারা কান্না করে দেন। কেএসআরএম গ্রুপ, এসআর শিপিংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
কবে নাগাদ নাবিকরা দেশে ফিরতে পারেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০ তারিখের (এপ্রিল) দিকে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারামিয়া বন্দরে পৌঁছাবেন। তাদের ওপর একটা চাপ গেছে। তারা একটু স্থির হোক। এরপর আমরা যোগাযোগ করব।
কেএসআরএম গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার জাহান রাহাত বলেন, জাহাজটি ১৯ বা ২০ তারিখ নাগাদ সংযুক্ত আরব আমিরাত পৌঁছাবে। সেখানে কিছু ফরমালিটিজ আছে। সেগুলো শেষ করতে চার-পাঁচদিন লাগতে পারে। সেটা শেষ করে তারা হয়তো ওই জাহাজেই ব্যাক করতে পারেন অথবা ফ্লাই করতে পারেন দুবাই থেকে, সে সিদ্ধান্ত আমরা এখনো নেইনি। সময় এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আমরা সিদ্ধান্তটা নেব। তবে জাহাজটাকে আমরা ফেরত আনছি। কারণ, জাহাজের কন্ডিশন একটু চেক করার প্রয়োজন আছে।
মুক্তিপণের পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু জিনিস আমরা প্রকাশ করতে পারব না। পাইরেসিকে আমরা এনকারেজ করতে পারব না।
জাহাজ ও নাবিকদের মুক্ত করতে সরকার সর্বতোভাবে সহযোগিতা করেছে জানিয়ে শাহরিয়ার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় টাইম টু টাইম আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। বিভিন্ন মেসেজ আমাদের দিয়েছেন।
জানা গেছে, গত শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাত ৩টা ৮ মিনিটে জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ থেকে নেমে যায় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলদস্যুরা নেমে যাবার পরই জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হারামিয়া বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। ওই দিন বিকেলে ছোট বিমানে করে জিম্মি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর পাশে ডলারভর্তি ব্যাগ ফেলা হয়। স্পিডবোটে অপেক্ষমাণ জলদস্যুদের কয়েকজন পানি থেকে ব্যাগ সংগ্রহ করেন। এর প্রায় আটঘণ্টা পর বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৮ মিনিটে জলদস্যুরা জাহাজ থেকে সরে যায়। এর আগে, জলদস্যুরা নাবিকদের জাহাজের ডেকে এনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করায়। চারপাশে অস্ত্র তাক করে ছিল জলদস্যুরা। উড়োজাহাজ থেকে সব নাবিক জীবিত ও অক্ষত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই ডলারভর্তি ব্যাগ ফেলা হয়।
জানা গেছে, উড়োজাহাজটি একবার চক্কর দিয়ে একটি করে ব্যাগ পানিতে ফেলছিল। তারপর স্পিড বোটে থাকা জলদস্যুরা সেই ব্যাগটি তুলে নিচ্ছিল। এভাবে তিনবার তিনটি ব্যাগ ফেলা হয়। প্রতিবারই জলদস্যুরা উল্লাস করছিল।তৃতীয় ব্যাগ ফেলার পর উড়োজাহাজটি ঘুরে গন্তব্যের দিকে চলে যায়। এরপর এমভি আবদুল্লাহতে থাকা কেউ একজন ইংরেজিতে নাবিকদের বলেন, তোমরা এবার মুক্ত। এখন চলে যেতে পারবে।
বাংলাদেশ সরকার কিংবা জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের কেউ মুক্তিপণ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেননি। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মুক্তিপণ দেওয়ার কোনো তথ্য ‘সরকারের কাছে নেই’।
তবে নাবিকদের মুক্তির কয়েক ঘণ্টা পর দুজন জলদস্যুর বরাতে ৫০ লাখ ডলার মুক্তিপণের কথা লিখেছে রয়টার্স। সোমালিয়ার স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোও একই পরিমাণ মুক্তিপণের খবর দিয়েছে।
মুক্তিপণের বিষয়ে জানতে চাইলে মেহেরুল করিম বলেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোমালিয়া এমনকি কেনিয়ার মেরিটাইম আইন মেনে কাজ করেছি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সাথে যোগাযোগ করে কাজ করেছি। সমঝোতার শর্ত অনুসারে অনেক বিষয় প্রকাশ করতে পারব না আমরা।
এদিকে জাহাজের মালিকপক্ষ কবির গ্রুপের মিডিয়া ফোকাল পার্সন মিজানুল ইসলাম বলন, রাত ৩টার দিকে জাহাজটি সোমালিয়া থেকে দুবাই রওনা হয়েছে। নাবিকরা সবাই সুস্থ আছেন। ঘণ্টা খানেকের মধ্যে নাবিকদের মুক্তির খবর দেশে পৌঁছাতেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
এমভি আব্দুল্লাহর ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার তানভীরের মা জ্যোৎস্না বেগম বলেন, ঈদের দিন কথা বলার পর আমার ছেলের সাথে আর কথা হয়নি। ভোর রাত পৌনে ৪টার দিকে সে ফোন করে মুক্তি পাওয়ার কথা জানিয়েছে। ভোর রাতে মুক্তির খবর পেয়ে কী যে আনন্দ লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। মনে হচ্ছে আজকেই আমাদের ঈদ। ঈদের দিনতো আমাদের ঘরে কোনো আনন্দেই ছিল না।
নাবিক আইনুল হকের মা লুৎফে আরা বেগম বলেন, আমার ছেলেরা মুক্ত হয়েছে, কেমন ভালো লাগছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। ঈদ গেলেও আমাদের ঘরে কোনো আনন্দ ছিল না। ঈদের দিন আইনুলের সাথে কথা হয়েছিল। তারপর দুই দিন আর কথা হয়নি। খুব শঙ্কায় ছিলাম, ছেলের মুক্তি নিয়ে। আমরা জাহাজ মালিকপক্ষ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা সবসময় বিষয়টি নজরে রেখেছে বলে আমার ছেলেরা মুক্তি পেয়েছে।
১৪ বছর আগে ১০০ দিন জলদস্যুদের কবলে থাকার পর মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হওয়া একই মালিকের জাহাজ জাহান মণির নাবিকরা মুক্ত হওয়ার পর জাহাজটি পরিচালনায় বিকল্প নাবিকদের একটি দল দায়িত্ব নিয়েছিল। এবার বিকল্প নাবিকরা প্রস্তুত কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে এসআর শিপিংয়ের সিইও মেহেরুল করিম বলেন, বিকল্প একজন ক্রুও রেডি করা হয়নি। কারণ এমভি আবদুল্লাহর নাবিকরা কীভাবে ফিরবেন, এখনো সে সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদের সিদ্ধান্ত অনুসারে বাকি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।এমভি জাহান মণি গ্রিসের পথে পণ্য নিয়ে যাচ্ছিল। মুক্তির পর নাবিকরা জাহাজ নিয়ে কাতারে যায়। কিন্তু পণ্য ইউরোপে খালাসের কথা ছিল। তাই বিকল্প নাবিকদের যেতে হয়। এমভি আবদুল্লাহর পণ্য দুবাইতেই খালাস হবে। সেখান থেকে জাহাজেরও দেশে ফেরার কথা। মেহেরুল করিম বলেন, এখন নাবিকরাই ঠিক করবেন তারা কীভাবে দেশে ফিরবেন।
মুক্তি পেয়ে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে এমভি আবদুল্লাহর নাবিকরা প্রিয় স্বদেশ ভূমিকে ভালোবাসার বার্তা দেন। জিম্মিদশা থেকে মুক্তির পর রোববার বেলা ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে জাহাজের চিফ অফিসার আতিকুল্লাহ খান ফেইসবুকে প্রথম পোস্ট দেন। তাতে দেখা যায়, জাতীয় পতাকা হাতে নাবিকরা সবাই উচ্ছ্বসিত।
ফেইসবুক পোস্টে আতিকুল্লাহ খান লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ, অবিশ্বাস্য প্রচেষ্টার জন্য এসআর শিপিংকে ধন্যবাদ। বন্ধু, পরিবার ও সকল শুভাকাঙ্খীদের কৃতজ্ঞতা- যারা পুরো যাত্রায় আমাদের জন্য প্রার্থনা করেছেন।ধন্যবাদ ইউএনএভিএফওআর অপারেশন আটলান্টা। ধন্যবাদ বাংলাদেশ। লাভ ইউ অ্যান্ড মিসিং ইউ বাংলাদেশ।
এদিকে সোমালিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পান্টল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে ৮ জন জলদস্যুকে গ্রেফতার করেছে সেখানকার পুলিশ। পান্টল্যান্ড পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে সোমালিয়ার ইংরেজি সংবাদমাধ্যম গেরো জানায়, বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহকে যারা জিম্মি করেছিল, সেই জলদস্যুদের ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে দেওয়া অর্থ উদ্ধারের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
১২ মার্চ এমভি আবদুল্লাহ জলদস্যুদের কবলে পড়ার খবর পেয়ে সেটিকে অনুসরণ করে ভারতীয় নৌবাহিনী এবং পূর্ব আফ্রিকা উপকূলের নৌপথের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইইউএনএভিএফওআর আটলান্টা অপারেশনের যুদ্ধ জাহাজ। এসময় দুই বাহিনীই এমভি আবদুল্লাহর কাছাকাছি পৌঁছালেও অস্ত্রের মুখে জাহাজের নাবিকরা জিম্মি থাকায় তারা কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি। ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রকাশ করা এ ছবিতে এমভি আবদুল্লাহর বিভিন্ন স্থানে সশস্ত্র জলদস্যুদের দেখা যাচ্ছে।
এরপর জলদস্যুরা জাহাজটিকে সোমালিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পান্টল্যান্ড রাজ্যের জিফল উপকূলে নিয়ে যায়। তীর থেকে মাত্র দেড় নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি নোঙর করা হয়। শুরুতেই এমভি আবদুল্লাহর নাবিকরা পরিবারের কাছে পাঠানো অডিও বার্তায় জানায়, মুক্তিপণ না দিলে জলদস্যুরা নাবিকদের এক এক করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। এর মধ্যে ১৬ মার্চ ভারতীয় নৌবাহিনী অভিযান চালিয়ে এমভি রুয়েন নামের মাল্টার পতাকাবাহী একটি জাহাজকে জিম্মি হওয়ার তিনমাস পর জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত করে। গ্রেপ্তার করে ৩৫ জলদস্যুকে। সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক বাহিনীগুলো এমভি আবদুল্লাহর নাবিকদের উদ্ধারে অভিযানে আগ্রহী হলেও নাবিকদের পরিবার ও জাহাজের মালিকপক্ষ জানায়, তারা এমন কোনো অভিযান চায় না। সমঝোতার ভিত্তিতে জাহাজটি ছাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল মালিকপক্ষ।
এরপর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও অভিযানের বিষয়ে অসম্মতির কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। এমভি আবদুল্লাহ ও নাবিকদের জিম্মি করার নয়দিনের মাথায় ২০ মার্চ প্রথমবার জলদস্যুদের প্রতিনিধিরা জাহাজ মালিকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দেন দরবার চলছিল। ২২ মার্চ পান্টল্যান্ড পুলিশের বরাতে বিবিসি সোমালি জানায়, জলদস্যুরা যাতে ভূমি থেকে কোনো সহায়তা না পায়, সেজন্য সেখানকার পুলিশ একটি অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে সমুদ্র অংশে আন্তর্জাতিক বাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ এমভি আবদ্ল্লুাহকে ঘিরে রেখেছে।তারপর থেকে জাহাজে সুপেয় পানির সংকট এবং জলদস্যুদের অস্ত্রের মুখে রাতদিন নাবিকদের জিম্মি করে রাখার খবর আসতে থাকে।
এরপর গত তিন সপ্তাহে বারবার জাহাজের মালিকপক্ষ জানায়, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। নাবিকদের নিরাপদে মুক্ত করার বিষয়ে তারা আশাবাদী। অবশেষে শনিবার রাত তিনটায় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মুক্তি পায় ২৩ নাবিক। মুক্ত হয় জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ।