spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

বন্দরে মাত্র এক সপ্তাহে ধ্বংস করা হলো ৮৬ কনটেইনার পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি করা ৩৪ কনটেইনারে ৯৩৫ টন খেজুর, ৪০ কনটেইনারে ১ হাজার ২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশসহ ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংসের কাজ করছে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ। যার মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইম স্টোন, মেয়াদোত্তীর্ণ বেনটোনাইট পাউডার, পচা কমলা, নষ্ট পেঁয়াজ, নষ্ট কেশোনাট, ফুড স্টাফ ইত্যাদি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে বিশাল গর্ত করে এসব পণ্য ধ্বংসের কাজ শুরু হয়। রোববার (৩০ আগস্ট) পর্যন্ত এক সপ্তাহে ৮৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ।

- Advertisement -

তিনি জানান, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে নিম্নমানের, মেয়াদোত্তীর্ণ, ব্যবহার অনুপযোগী ১২৬ কনটেইনারে থাকা পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে।

প্রথম দিন ১০ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হয়েছিল। দ্বিতীয় দিন ২৩ কনটেইনার ধ্বংস করা হয়।
এক সপ্তাহে ৮৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে গত ৬ আগস্ট বন্দরের কাস্টমস অকশন শেডে রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে দুই লটে পাঁচ কনটেইনারে থাকা ‘রয়েল টাইগার এনার্জি ড্রিংক’ ও পারসোনাল কেয়ার প্রডাক্ট (শ্যাম্পু) ধ্বংস করা হয়েছিল।
খেজুর ও সোডা অ্যাশ ছাড়াও এবারের ধ্বংসযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১৮ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইম স্টোন, ৮ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ বেনটোনাইট পাউডারসহ পচা কমলা, নষ্ট পেঁয়াজ, নষ্ট কেশোনাট, ফুড স্টাফ ইত্যাদি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নিলাম-অযোগ্য, নিম্নমান ও মেয়াদোত্তীর্ণ ১২৬ কনটেইনারের ৩ হাজার ২৬৮ মেট্রিকটন পণ্য পরিবেশ সম্মত উপায়ে ধ্বংস করার উদ্যোগ নিয়েছে। গত ২৪ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনের নির্ধারিত স্থানে এ ধ্বংস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি, আনসার সদস্য এবং স্থানীয় বন্দর থানা পুলিশের একটি দল সরেজমিন উপস্থিত থেকে পুরো ধ্বংসকাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে।

কাস্টম হাউস পরিচালিত পচনশীল ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের এ কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট নিরসনে অত্যন্ত কার্যকরী অবদান রাখবে বলে আশা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সহযোগিতায় বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলাম-অযোগ্য এবং ধ্বংসযোগ্য পণ্যসমূহ পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করার এ প্রক্রিয়া জরুরি ভিত্তিতে অব্যাহত থাকবে।

সূত্র জানায়, আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে সরবরাহ নিতে হয়। কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তোলা যায়। নিলামে বিক্রি না হলে বা পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে জনস্বার্থ ও জনস্বাস্থ্যের হুমকি বিবেচনায় এসব পণ্য ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ধ্বংসযোগ্য পণ্য বাছাই ও সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। বন্দরে পড়ে থাকা কনটেইনার যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে মাসের পর মাস বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখতে হয়। এতে বিদ্যুতের অপচয় হয়। অন্যদিকে শিপিং এজেন্টের কনটেইনার আটকা পড়ে বন্দরে। বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ জেটি, ইয়ার্ড ও টার্মিনাল এবং অফডকে কনটেইনার জটের আশঙ্কা দেখা দেয়। পণ্য ধ্বংসের পর খালি কনটেইনার ফেরত পায় শিপিং এজেন্ট।

spot_imgspot_img
spot_imgspot_img

সর্বশেষ