মো. মোক্তার হোসেন বাবু:
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি জনগণের সামনে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতি, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকদের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে সংলাপ প্রয়োজন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সুলতান আহমদ হলে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘এনসিটি ইজারা দিলে দেশের কী লাভ হবে, তা সরকারকে জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে হবে। একইভাবে ইজারা দেওয়া হলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়েও জাতীয় পর্যায়ে সংলাপ প্রয়োজন।’
দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। এ বন্দরের সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতি এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবন-জীবিকা জড়িত। ফলে বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সভায় এনসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে আগামী ৫ অক্টোবর দিনব্যাপী বন্দর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি সফল করতে জাতীয় ফেডারেশন, বেসিক ইউনিয়ন ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করেন নেতারা।
বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান তারা। তবে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করা হলে সেটি ভুল হবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
প্রয়োজনে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে অবরোধ ও হরতালের মতো কর্মসূচি ঘোষণার কথাও সভা থেকে জানানো হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এসকে খোদা তোতন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম।
এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, সহ-সম্পাদক ইব্রাহীম ফরাজি, বিএফটিইউসির সভাপতি আনোয়ারুল হক হুনি, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু আহমেদ মিয়া, বন্দর উইঞ্চ ক্রেন অপারেটর সমিতির নেতা ইমাম হোসেন স্বপন, বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম, কমিউনিটি সেন্টার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. পারভেজ, চট্টগ্রাম যুব ট্রেড ইউনিয়ন নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান বিপ্লব, লুৎফুন্নাহার সোনিয়া, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতা হেলাল উদ্দিন কবির ও ইমান আলী জানুসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।




