উন্নয়ন প্রকল্পে ফ্রান্সের সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

ফ্রান্সের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও নগর ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও বাণিজ্যেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

বুধবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শার্লের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

আলোচনায় বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বাড়ানো, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা জোরদার এবং নতুন প্রকল্পে ফ্রান্সের সহায়তার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।

বৈঠকে ফ্রান্সের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে বাংলাদেশ সরকারের ১০টি উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এ উদ্যোগ নিয়ে মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও নগর ব্যবস্থাপনা খাতে ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছে। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হলে দুই দেশের উন্নয়ন অংশীদারত্ব নতুন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

এএফডির চার প্রকল্পে বড় অর্থায়ন

বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ফ্রান্সের উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা এজেন্স ফ্রঁসেজ দ্য ডেভেলপমঁ—এএফডির চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

প্রকল্পগুলো হলো সায়েদাবাদ পানি পরিশোধন প্ল্যান্টের তৃতীয় পর্যায়, ঢাকা এনভায়রনমেন্টালি সাস্টেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন স্যানিটেশন প্রকল্প ফর নর্থ কাট্টলী ক্যাচমেন্ট এবং ইমপ্রুভিং আরবান গভর্নেন্স অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্প।

এসব প্রকল্পে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের শহর ও পৌর এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ, অন্তর্ভুক্তিমূলক স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির মান উন্নয়নে নতুন একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘ওয়াটার সাপ্লাই, ইনক্লুসিভ স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন প্রজেক্ট ইন আরবান অ্যান্ড টাউনস অব বাংলাদেশ’ নামের এই উদ্যোগের মাধ্যমে নগর ও পৌর এলাকার পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে জোর

বৈঠকে শুধু চলমান প্রকল্প নয়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাড়ানোর পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময় ও লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে পারবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ