আন্তর্জাতিক ফুটবলে লিওনেল মেসির অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো। বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামলেন আর্জেন্টিনার এই কিংবদন্তি।
একই সঙ্গে শেষ হলো মেসি ও লিওনেল স্কালোনির সেই সফল জুটি, যাদের হাত ধরে গত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনা পেয়েছে একের পর এক বড় সাফল্য। মেসির বিদায়ের পর এবার নতুন বাস্তবতার সঙ্গে পথ চলতে হবে কোচ স্কালোনিকে।
শেষ ম্যাচেও মেসির ঝলক
বিদায়ী ম্যাচটিকেও স্মরণীয় করে রাখলেন মেসি। বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার তিন গোলেই প্রত্যক্ষ অবদান ছিল তাঁর।
নিকো পাস ও নিকোলাস ওটামেন্ডির গোলের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পর ৭১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে নিজেই গোল করেন মেসি। জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচেও নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখে মাঠ ছাড়েন তিনি।
ম্যাচ শেষে মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর আবেগের মধ্যেই বিদায়ী বক্তব্য দেন মেসি। গ্যালারিতে থাকা হাজারো দর্শকের পাশাপাশি তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন সতীর্থ ও কোচ স্কালোনি।
আবেগ সামলাতে পারেননি স্কালোনি
মেসির বিদায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্কালোনি। দীর্ঘদিনের শিষ্যকে নিজের দলের অংশ হিসেবে পাওয়ার অভিজ্ঞতাকে অসাধারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
স্কালোনির ভাষায়, মেসির মতো একজন খেলোয়াড়কে নিজের দলে পাওয়ার অনুভূতির সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর তুলনা করা কঠিন। তাঁর এই অনুভূতি শুধু ফুটবলীয় সাফল্যের নয়, বরং দীর্ঘ সময়ের একটি বিশেষ সম্পর্কেরও প্রতিফলন।
মেসিকে ঘিরেই স্কালোনির সোনালি অধ্যায়
স্কালোনির অধীনে গত আট বছরে আর্জেন্টিনা ফুটবলের অন্যতম সফল সময় পার করেছে। মেসিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দলটি জিতেছে চারটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা।
এর মধ্যে রয়েছে ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা।
মেসি-স্কালোনি জুটির এই সাফল্য আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক ট্রফিখরা থেকে বের করে এনে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
‘তার মতো আভা আর কারও মধ্যে দেখিনি’
মেসির জায়গা পূরণ করা যে সহজ হবে না, সেটি স্পষ্টভাবেই স্বীকার করেছেন স্কালোনি। নতুন খেলোয়াড়দের নিয়ে শক্তিশালী দল তৈরি করা সম্ভব হলেও মেসির মতো বিশেষ কিছু আর কারও মধ্যে দেখা যাবে না বলে মনে করেন তিনি।
স্কালোনির মতে, মেসিকে ছাড়া আর্জেন্টিনাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দলকে এখন নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। নতুন প্রজন্মকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠন করলেও মেসির অনন্য উপস্থিতির অভাব থাকবেই।
ওটামেন্ডিরও বিদায়
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু মেসির বিদায়ী ম্যাচ ছিল না। একই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নিকোলাস ওটামেন্ডিও।
দীর্ঘদিন জাতীয় দলের রক্ষণভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন ওটামেন্ডি। মেসির সঙ্গে তাঁর বিদায় আর্জেন্টিনা দলের একটি সফল প্রজন্মের সমাপ্তিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
মেসি ও ওটামেন্ডির বিদায়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে একটি স্মরণীয় যুগের পর্দা নামল। সামনে এখন স্কালোনির নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে আরেকটি অধ্যায় শুরু করার অপেক্ষা।

