গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সরকার ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে জোটটি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান কমিটির সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। বৈঠকে সভাপতিত্বও করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণভোটের গণরায় কার্যকর, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিতে তাদের আন্দোলন চলছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে এমন পথগুলো দ্রুত বন্ধ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনসহ গুম-খুন প্রতিরোধে স্বাধীন কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে মেধার পরিবর্তে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্যদের পদত্যাগে বাধ্য করা এবং নির্বাচন কমিশনে শামসুল আলমকে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি দলীয়করণের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঠাকুরগাঁওয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি আগামী ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মতো কারচুপির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তারা খবর পাচ্ছেন বলেও জানান।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সরকারকে মাগুরার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ওই নির্বাচন একটি কালো অধ্যায় হিসেবে পরিচিত উল্লেখ করে তিনি সরকারকে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
৩১ অক্টোবরের লংমার্চ শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকার ও প্রশাসনের দায়িত্ব। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উসকানি বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলে আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে প্রশাসনের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।
যেভাবে অনুষ্ঠিত হবে লংমার্চ
জোটের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের। এ ছাড়া জোটের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেবেন।
সকাল ৮টায় প্রায় এক হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মাওয়া সড়ক ও পদ্মা সেতু হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, বাগেরহাটের ফকিরহাট ও রূপসা সেতু পেরিয়ে খুলনায় পৌঁছাবে বহরটি। পরে যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায়, সকাল ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে, বেলা সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে এবং দুপুর ২টায় ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড় এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, লংমার্চে গণমাধ্যমকর্মী, চিকিৎসক, শিল্পী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে ১১ দলের নেতারা
লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী এবং নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলামসহ জোটের অন্যান্য নেতারা বৈঠকে অংশ নেন।

