যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেও ইরানের চুক্তির আগ্রহ, হামলা হলে পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করে চুক্তি চূড়ান্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা হলে শক্তিশালী পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

- Advertisement -

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবিতে সম্প্রচারিত বক্তব্যে পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনা চলার সময় যুক্তরাষ্ট্র সবকিছু ভেস্তে দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি সত্ত্বেও আবারও আলোচনায় ফিরে গিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

ইরানের প্রেসিডেন্টের এ বক্তব্যে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অসন্তোষ, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমাধানের আগ্রহ উঠে এসেছে। তবে কী ধরনের অন্তর্বর্তী চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল এবং তা কোন পর্যায়ে ভেঙে পড়ে, সে বিষয়ে বক্তব্যে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ট্রাম্পের হুমকিকে প্রচারণা বলছে আইআরজিসি

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিষয়ক হুমকিকে গণমাধ্যমে প্রচারের কৌশল হিসেবে দেখছে আইআরজিসি। আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাহিনীটির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধসংক্রান্ত বক্তব্যের লক্ষ্য হলো প্রচারণা চালানো এবং ইরানের জনগণের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা।

মোহেব্বির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কার্যকর সামরিক অভিযান চালাতে পারবে না। ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটন নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক হামলা চালালে তার জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি সীমিত পরিসরের হামলা হলেও ইরানের প্রতিক্রিয়া কয়েক গুণ বেশি শক্তিশালী হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর হামলার সিদ্ধান্ত?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, সামরিক অভিযান চালিয়ে যেকোনো সময় ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারবেন।

ট্রাম্পের বক্তব্য এবং আইআরজিসির পাল্টা হুঁশিয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি।

কূটনীতি ও সামরিক প্রস্তুতি—দুই পথেই তেহরান

ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ পেলেও আইআরজিসির অবস্থান সামরিক প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছে। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার পাশাপাশি নতুন সংঘাতের আশঙ্কাও রয়ে গেছে।

চুক্তি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে উত্তেজনা কমানোর পথে অগ্রগতি হবে, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

সূত্র: রয়টার্স

সর্বশেষ