যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালালে কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা মেনে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন মোজতবা খামেনি। এর আগে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন, অর্থাৎ ৪ নভেম্বর থেকে ইরানে হামলা শুরু হতে পারে।
বিবৃতিতে খামেনি বলেন, শত্রুপক্ষ আবারও সামরিক কিংবা সন্ত্রাসী হামলা চালালে সেই সংঘাত কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণ।
বিবৃতিটি প্রকাশের সময় দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ওয়াহিদি। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এটিই তার প্রথম প্রকাশিত বৈঠক।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মোজতবা খামেনির বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবা নিজেও আহত হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এরপর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।
বিবৃতিতে সামরিক কমান্ডারদের উদ্দেশে মোজতবা খামেনি বলেন, যেকোনো মাত্রা ও ধরনের হুমকির তাৎক্ষণিক, কার্যকর এবং ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতাহীন জবাব নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সব সম্পদকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তা নিয়মিত হালনাগাদ করার নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে চলতি বছরের সংঘাতে ইরান হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বিভিন্ন দেশের জ্বালানি অবকাঠামোও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এমনকি ভারত মহাসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া সামরিক বিমানঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে তেহরান। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানার সক্ষমতার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে। ইউরোপের কয়েকটি দেশ মহাদেশজুড়ে ইহুদি স্থাপনায় হামলা ও হামলার ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তুলেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানে হামলা চালালে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামনিয়া বলেন, জায়নবাদীদের চাপের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আবারও আঞ্চলিক সামরিক অভিযানে জড়ালে যুদ্ধের আগুন আরও বিস্তৃত ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে।
সূত্র: আরব নিউজ

