বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল পর্তুগাল, তাঁবুশিবিরে পুলিশের অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

পর্তুগালে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনরত মানুষের ওপর অভিযান চালিয়ে তাঁবুশিবির উচ্ছেদ করেছে পুলিশ। রাজধানী লিসবনের রসিও স্কয়ারে গড়ে ওঠা বিক্ষোভকারীদের অস্থায়ী শিবির সরাতে গিয়ে পুলিশ লাঠিপেটা ও বলপ্রয়োগ করে। এ সময় শত শত আন্দোলনকারীকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

- Advertisement -

রবিবার (১ নভেম্বর) ভোরে ঢাল ও লাঠিসজ্জিত কয়েক ডজন পুলিশ সদস্য রসিও স্কয়ারে অভিযান চালান। অভিযানে পুলিশ কুকুরও ব্যবহার করা হয়। একই সময়ে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর পোর্তোতেও একটি ছোট তাঁবুশিবির উচ্ছেদ করা হয়।

এর আগে শনিবার লিসবনের রাজপথে আবাসন সংকটের প্রতিবাদে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন। সরকারের প্রস্তাবিত ভাড়াসংক্রান্ত আইনের বিরোধিতা করে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা আইনটি বাতিলের দাবি জানান। তাদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এবং সাধারণ মানুষের আবাসন সংকট আরও তীব্র হবে।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে আন্দোলনকারীরা রসিও স্কয়ারে ৫০টির বেশি তাঁবু স্থাপন করে অবস্থান নেন। রবিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে সেগুলো সরিয়ে দিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

পুলিশ কমান্ডার ইউরি রদ্রিগেস আন্দোলনকারীদের তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার জন্য তিনবার সতর্ক করেন। তিনি জানান, অনুমতি ছাড়া তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। উচ্ছেদে বাধা দেওয়া হলে অবাধ্যতার অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এরপরও বিক্ষোভকারীরা অবস্থান ধরে রাখলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পুলিশের এমন পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা করেছেন আইনপ্রণেতা পেদ্রো দেলগাদো আলভেস। তার মতে, রসিও স্কয়ারে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল। সেখানে লাঠিপেটা বা শারীরিক বলপ্রয়োগের কোনো প্রয়োজন ছিল না।

এর আগের রবিবারও লিসবন ও পোর্তোতে আবাসন আন্দোলনকারীদের তাঁবুশিবির উচ্ছেদে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই ঘটনায় লিসবন থেকে ২৫ জন এবং পোর্তো থেকে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। আবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘কাসা পারা ভিভের’ দাবি, ওই অভিযানে দুই শহরে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছিলেন। যদিও পুলিশ তাদের পদক্ষেপকে পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করে।

বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, চাপে সাধারণ মানুষ

পর্তুগালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ির দাম ও ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বাসা ভাড়া নেওয়া কিংবা নিজস্ব বাড়ি কেনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ২০১৭ সালের পর দেশটিতে বাড়ির দাম দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সময়ে নতুন ভাড়ার চুক্তিগুলোর খরচও প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছেছে।

ব্যাংক অব পর্তুগালের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় তিন লাখ আবাসনের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির পরিমাণ রাজধানী লিসবনের মোট আবাসনসংখ্যার প্রায় সমান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মধ্য-ডানপন্থী সংখ্যালঘু সরকারের প্রস্তাবিত নতুন আইনে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং ভাড়াটেদের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সহজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এতে বাড়ির মালিকেরা ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে আরও স্বাধীনতা পাবেন। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন সাধারণ ভাড়াটেরা।

শুধু পর্তুগাল নয়, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশেও অসন্তোষ বাড়ছে। স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও বেলজিয়ামসহ বিভিন্ন দেশে বাড়িভাড়া, বাসস্থানের সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নামছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ