শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল সাভার-গাজীপুর, বন্ধ ৮০ কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভার ও গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। রোববার সকাল থেকে শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার স্বার্থে দুই শিল্পাঞ্চলের অন্তত ৮০টি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

সকাল থেকে শুরু হওয়া শ্রমিকদের আন্দোলন সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও বিস্তৃত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কায় সাভারের আশুলিয়ায় অর্ধশতাধিক এবং গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অন্তত ৩০টি কারখানা বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও কারখানার আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে সাভার এলাকায় অর্ধশতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর এলাকায় করনী নিট কম্পোজিট ও নিট এশিয়াসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাদের বিক্ষোভের জেরে আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকার ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শ্রমিক আন্দোলনের কারণে বাধার মুখে পড়েন। কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল কারখানার গোডাউনে অগ্নিসংযোগের খবর তারা পেয়েছেন। তবে আন্দোলন পরিস্থিতির কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আন্দোলনের কারণে কালিয়াকৈর এলাকায় অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।

সর্বশেষ