দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা।
সোমবার (২ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে সংস্থাটি। ঘোষিত দাম আজ রাত ৮টা থেকে কার্যকর হবে।
এদিকে, যানবাহনে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (অটোগ্যাস) এর দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি।
নতুন এ মূল্যবৃদ্ধির ফলে এলপিজি ব্যবহারকারী পরিবার এবং অটোগ্যাসনির্ভর যানবাহনের মালিকদের খরচ আরও বাড়বে।
দেশে বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে এলপিজির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে পাইপলাইনের গ্যাসের সংযোগ না থাকা এবং নতুন সংযোগ সীমিত থাকায় অনেক পরিবার সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে এলপিজির দাম বাড়লে সরাসরি বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়েন সাধারণ ভোক্তারা।
এলপিজির মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার এবং পরিবহনসহ সংশ্লিষ্ট খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়। বিইআরসি প্রতি মাসে এসব বিষয় পর্যালোচনা করে ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করে।
তবে কমিশনের নির্ধারিত দামের সঙ্গে বাজারে বিক্রি হওয়া সিলিন্ডারের দামের পার্থক্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ ওঠে। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বাজারে এলপিজি বিক্রি কমিশনের নির্ধারিত মূল্যে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
এ অবস্থায় নতুন করে দাম বাড়ায় রান্নার জ্বালানি বাবদ পরিবারের মাসিক ব্যয় আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

