স্পোর্টস ডেস্ক : উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই শক্তিশালী ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। নয়টি ম্যাচের রাতের সূচিতে এই লড়াই ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ সমর্থকদের। দলীয় শক্তি, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অতীত সাফল্য এবং মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে বায়ার্ন। তবে চোটের সমস্যা ও রক্ষণভাগের সাম্প্রতিক দুর্বলতা জার্মান ক্লাবটিকে কিছুটা চাপে রেখেছে। বিপরীতে নিজেদের মাঠে খেলা এবং দুর্দান্ত ছন্দে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ চাইবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে।
কাগজে-কলমে বায়ার্নকে এগিয়ে রাখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তারকাসমৃদ্ধ দল, আক্রমণভাগের শক্তি এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা তাদের বড় সম্পদ। তবে ম্যাচের আগে দলটির সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা খেলোয়াড়দের চোট। লুইস দিয়াস ও সার্জ গ্যানাব্রি চোটের কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না। একই কারণে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড় মাইকেল ওলিসের খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কোচের অসুস্থতা।
শুধু খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিই নয়, বায়ার্নের রক্ষণভাগের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবশেষ দুই ম্যাচে ভাইকিংয়ের বিপক্ষে তিনটি এবং আর্সেনালের বিপক্ষে দুটি গোল হজম করেছে দলটি। ঘরোয়া লিগে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষেও সবশেষ ম্যাচে দুই গোল খেয়েছে তারা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে রক্ষণ সামলাতে না পারার এই প্রবণতা অ্যাটলেটিকোর মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বড় সমস্যা হয়ে উঠতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে বায়ার্নের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা হ্যারি কেইন। সদ্য ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার গোল করার সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতার ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে দলটির সাফল্য। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্য সুযোগ তৈরি করাও হতে পারে তাঁর বড় দায়িত্ব।
অন্যদিকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের শক্তি নিজেদের মাঠের সুবিধা এবং সাম্প্রতিক ছন্দ। কোচ দিয়েগো সিমিওনির অধীনে দলটি দীর্ঘদিন রক্ষণনির্ভর ফুটবলের জন্য পরিচিত হলেও চলতি মৌসুমে তাদের খেলার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। আগের তুলনায় আক্রমণাত্মক ফুটবলে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে দলটি। ফলে বায়ার্নের দুর্বল রক্ষণকে কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
অ্যাটলেটিকোর জন্য আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো, দলটিতে বড় ধরনের চোটের সমস্যা নেই। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী পূর্ণ শক্তির কাছাকাছি দল নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন সিমিওনি। ম্যাচের আগে তাঁর বক্তব্যেও আত্মবিশ্বাসের ছাপ রয়েছে। বড় এই লড়াইকে চাপ হিসেবে না দেখে উপভোগ করার মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামতে চায় তাঁর দল।
সব মিলিয়ে ঐতিহ্য ও তারকাসমৃদ্ধ দল বিবেচনায় বায়ার্ন এগিয়ে থাকলেও মাঠের লড়াইয়ে অ্যাটলেটিকোকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। বায়ার্নের আক্রমণভাগ কতটা কার্যকর হয় এবং রক্ষণভাগ কতটা চাপ সামলাতে পারে, তার ওপর নির্ভর করবে ম্যাচের গতিপথ। অন্যদিকে ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বায়ার্নকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে প্রস্তুত সিমিওনির দল।

