আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির বিদায়ের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। বছরের শেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই দুই ম্যাচ সামনে রেখে ঘোষিত ২৮ সদস্যের দলে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন চেলসির তরুণ ডিফেন্ডার আরন আনসেলমিনো। পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন গন্সালো মনতিয়েল ও মারিয়ানো ত্রোলিও।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দল ঘোষণা করেন স্কালোনি। তবে ইনজুরির কারণে এবারের স্কোয়াডে রাখা হয়নি ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লাউতারো মার্তিনেস ও নিকোলাস গন্সালেসকে। এছাড়া রদ্রিগো দি পল ও জিওভানি লো সেলসোও জায়গা পাননি দলে।
ঘোষিত স্কোয়াডে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেস। গত মাসে চোয়ালে গুরুতর চোট পেয়ে অস্ত্রোপচার করানোর পর এখনো ক্লাব চেলসির হয়ে মাঠে ফিরতে পারেননি তিনি। তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিকল্প হিসেবে আরও তিন গোলরক্ষককে দলে রেখেছেন স্কালোনি। তারা হলেন খেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো ও সান্তিয়াগো বেলত্রান।
দলের নতুন মুখ ২১ বছর বয়সী ডিফেন্ডার আরন আনসেলমিনো। বোকা জুনিয়র্সের যুব দল থেকে উঠে আসা এই সেন্টার-ব্যাককে আর্জেন্টিনার সম্ভাবনাময় ফুটবলারদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে সাত বছরের চুক্তিতে চেলসিতে যোগ দেন তিনি। এর আগে বোকা জুনিয়র্সের মূল দলের হয়ে ২০টিরও কম ম্যাচ খেলেছিলেন এই তরুণ।
তবে ইনজুরির কারণে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের সামর্থ্য পুরোপুরি দেখানোর সুযোগ পাননি আনসেলমিনো। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও ফরাসি ক্লাব স্ত্রাসবুরে ধারে খেলেছেন তিনি। পরে চেলসিতে ফিরে মালয়েশিয়ার জোহরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে আবারও চোটে পড়েন। ফলে এখনো চেলসির মূল দলের হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার।
এদিকে ২৩ বছর বয়সী সেন্টার-ব্যাক মারিয়ানো ত্রোলিও দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে চিলি ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের স্কোয়াডে থাকলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি তিনি।
অন্যদিকে ২৯ বছর বয়সী রাইট-ব্যাক গন্সালো মনতিয়েল দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন। বিশ্বকাপজয়ী এই ডিফেন্ডার সর্বশেষ গত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে খেলার পর জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা পাননি। তবে সোমবার রিভার প্লেটের হয়ে সুপারক্লাসিকোতে লাল কার্ড দেখে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি গত ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান। তার অবসরের পর এটাই আর্জেন্টিনার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচের প্রস্তুতি। ফলে নতুন অধিনায়কত্ব ও দলীয় সমন্বয়ের বিষয়টিও এবারের ম্যাচগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস আইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর ১৭ নভেম্বর কর্দোবার মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে কোস্টারিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আর্জেন্টিনার ২৮ সদস্যের স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, খেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো, সান্তিয়াগো বেলত্রান।
ডিফেন্ডার: গন্সালো মনতিয়েল, আগুস্তিন চিয়াই, আরন আনসেলমিনো, মারিয়ানো ত্রোলিও, লিওনার্দো বালের্দি, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস তালিয়াফিকো, রোমান ভেগা।
মিডফিল্ডার: এসেকিয়েল ফের্নান্দেস, মাক্সিমো পেরোনে, এসেকিয়েল পালাসিওস, ভালেন্তিন বার্কো, আলেক্সিস মাক আলিস্তের, এন্সো ফের্নান্দেস, নিকো পাহ, মাতিয়াস সুলে, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, থিয়াগো আলমাদা।
ফরোয়ার্ড: জুলিয়ানো সিমেওনে, জানলুকা প্রেস্তিয়ানি, হোসে মানুয়েল লোপেস, সান্তিয়াগো কাস্ত্রো, হুলিয়ান আলভারেস।

