ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ এবং সামরিক অভিযানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি চাইতে পারেন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসান এবং ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের সম্ভাব্য কৌশল নির্ধারণও ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন রিপাবলিকান রাজনৈতিক কৌশলবিদ অ্যামি ফ্রেডেরিকসেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিস থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ইরান থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায়, সেই পরিকল্পনা তৈরি করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের মধ্যে সমন্বয় হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তিনি বলেন, ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযান নিয়ে এখন পর্যন্ত কংগ্রেসে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রশ্ন বা আলোচনা দেখা যায়নি। অথচ মার্কিন জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যুদ্ধের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশ্ন তোলার দায়িত্ব কংগ্রেসের।
ফ্রেডেরিকসেনের মতে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী দেশ হিসেবে দেখতে চান না। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ক্ষেত্রেও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ও সম্ভাব্য হুমকিকে অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এনেছিল ওয়াশিংটন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ পরিচালনার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই রিপাবলিকান কৌশলবিদ। তার অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে। ফলে জনগণের সামনে দেওয়া বক্তব্য ও যুদ্ধের প্রকৃত পরিস্থিতির মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও মনে করেন, প্রশাসনের সামরিক সিদ্ধান্ত ও যুদ্ধসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানো এখন কংগ্রেসের জন্য জরুরি। বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এবার এ বিষয়ে সক্রিয় হয়ে প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন।
এমন পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, সংঘাত বন্ধের সময়সীমা এবং মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা

