নির্বাচনে মানুষের আচরণের পরিবর্তন ব্যাখ্যা করা কঠিন: মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষের আচরণ ও অবস্থানের নানা পরিবর্তন দেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন মানুষের ভূমিকা ও আচরণে যে পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কিংবা ব্যাখ্যা করা কঠিন বলে জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে প্রয়াত মেয়র ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, কয়েক যুগ ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে মানুষের অবস্থান ও আচরণের পরিবর্তন দেখেছেন। এবারের জাতীয় নির্বাচনেও অনেকের মধ্যে এমন পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন, যা ব্যাখ্যা করা কঠিন।

স্মরণসভায় প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, খোকা ছিলেন রাজপথের একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধা। তিনি খুব বেশি কথা বলতেন না কিংবা হাসতেন না, তবে তার আন্তরিকতা ও ব্যক্তিত্ব সহজেই মানুষকে আকৃষ্ট করত। অত্যন্ত সহজ-সরল ও উদার মনের মানুষ ছিলেন তিনি।

নিজেদের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি শাহজাহানপুরের এবং সাদেক হোসেন খোকা গোপীবাগের বাসিন্দা ছিলেন। পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দা থেকে কখন যে তারা একে অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হয়ে উঠেছিলেন, তা বুঝতে পারেননি। কমিশনার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের একসঙ্গে পথচলা শুরু হয়। দীর্ঘ সময়ের এই যাত্রায় অনেক আপনজনকে হারাতে হয়েছে বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

খোকা জীবিত থাকাকালে বিভিন্ন পক্ষ তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে মির্জা আব্বাস বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে কেউ কখনো খোকার কাছে তার সম্পর্কে, আবার কখনো তার কাছে খোকাকে নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক কথা বলেছে। তবে তারা নিজেদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা করে এসব বিষয় পরিষ্কার করে নিতেন।

রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে কখনো তিক্ততা তৈরি হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য, ঝগড়া ও দ্বন্দ্ব হয়েছে। কিন্তু তা কখনো ব্যক্তিগত বিরোধে রূপ নেয়নি। খোকাকে নিয়ে জীবনের নানা ঘটনা লিখতে বসলে একটি পূর্ণাঙ্গ বই হয়ে যাবে।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, রাজনৈতিক জীবনে অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। আজ সাদেক হোসেন খোকা বেঁচে থাকলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হয়তো আরও অনেক ভালো ভূমিকা রাখতে পারতেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ও খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

স্মরণসভা শেষে প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সর্বশেষ