আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবে না জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

গণহত্যা, নির্যাতন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগকে দেশের মানুষ আর রাজনীতিতে দেখতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অতীতের অন্যায় ও হত্যাকাণ্ডের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ না করা পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়।

- Advertisement -

শুক্রবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদরাসায় আয়োজিত ১০৪তম দুই দিনব্যাপী বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা অন্যায়, অত্যাচার, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে, তাদের আবার রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত গণহত্যা ও নির্যাতনের জন্য দলটির পক্ষ থেকে এখনো অনুশোচনা বা দুঃখ প্রকাশ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাবুনগর মাদরাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে সংগঠনটি অরাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেও দ্বীন, দেশ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ আন্দোলনে আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীসহ সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে দীর্ঘ ২৩ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। একইভাবে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জনগণকে মুক্ত করতে ১৬ থেকে ১৭ বছর আন্দোলন চালাতে হয়েছে। এ সময়ে আলেম-ওলামা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবন দিয়েছেন। অনেক শহীদের পরিচয় ও কবরের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি।

গুম-খুন ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ওই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ শহীদ হয়েছেন। এর আগে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলেন জানিয়ে বলেন, আল্লাহর রহমত ও মানুষের দোয়ায় তিনি বেঁচে ফিরেছেন।

তার দাবি, এ সময়ে প্রায় সাত হাজার মানুষ বিভিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া লাখ লাখ মানুষ হামলা ও মামলার মাধ্যমে হয়রানির মুখে পড়েছেন।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এত ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনের পর আবারও কি ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যাবর্তন কামনা করা যায়? কারা তাদের ফিরে আসার পরিবেশ তৈরি করছে, সেটিও ভেবে দেখা প্রয়োজন।

গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টার পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

জাতীয় ঐক্য ও ইসলামী মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব

বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। দেশের সব ধর্ম ও জনগোষ্ঠীর মানুষের একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় রয়েছে।

তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে যারা বিভাজন তৈরি করছে, তাদের কর্মকাণ্ড প্রকৃত ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন নয়। অতীতেও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তার ভাষ্য, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনঃস্থাপন করা হবে।

সমালোচনা হোক গঠনমূলক, সহযোগিতা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণহত্যা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্নে জনগণের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে বলে দাবি করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন, মসজিদে হামলা ও রক্তপাতের ঘটনায় দায়ীদের জনগণ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

আন্দোলনকারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকারের সমালোচনা অবশ্যই করা যাবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে নয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে চায়। পাশাপাশি আলেম-ওলামা ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের কল্যাণে ইসলামী ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সর্বশেষ