আরেকবার দেশ সেবার সুযোগ পেলে ঢাকা-চট্টগ্রামে বুলেট ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি

মো.মুক্তার হোসেন বাবু : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আরেকবার দেশ সেবা করার সুযোগ পেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর লালদিঘী মাঠে অনুষ্ঠিত প্রার্থী পরিচিতি সমাবেশে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই চট্টগ্রামের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আবার ও নৌকা মার্কায় ভোট চাই। উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে হলে চট্টগ্রামের সব কটি আসনে যাতে বিজয়ী হতে পারি সে লক্ষ্য নিয়ে প্রার্থীরা কাজ করেন। সেজন্য আমি চট্টগ্রামবাসীর দোয়া চাই। এবার সরকার গঠন করতে পারলে ঢাকা-চট্টগ্রাম বুলেট ট্রেন চালু করব। যাতে দ্রæত সময়ের মধ্যে ঢাকা চট্টগ্রাম আসা যাওয়া করা যায়।
বক্তব্যে তিনি মঈনুদ্দিন খান বাদলের বক্তব্যের সুত্র ধরে বলেন, বাংলাদেশকে এখন আর কেউ ফকিরের দেশ বলে না। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। দুর্নীতিবাজ, মানি লন্ডারারদের আমলে এদেশ পরিচিত ছিল এক নম্বর দুর্নীতিগ্রস্থদেশ, দরিদ্র, ক্ষুধা আর খরার দেশ। এখন আর তা কেউই বলে না।

- Advertisement -

এসময় তিনি চট্টগ্রাম নেতৃবৃন্দকে এক মিনিট করে বক্তব্য প্রদানের জন্য আহবান জানালে চট্টগ্রাম -১ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম -৮ আসনের প্রার্থী মঈনুদ্দিন খান বাদল, চট্টগ্রাম -৭ আসনের প্রার্থী ড. হাসান মাহমুদ, মহানগর আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঞ্চালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগে চট্টগ্রামের অভূতপূর্ব উন্নয়ন এবং আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার নিয়ে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বক্তব্য শুরু করেন।
বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে দেয়া অঙ্গীকার পূরণ করেছে। আমরা একে একে যুদ্ধাপরাধীর বিচার কাজ বাস্তবায়ন করে জাতিকে অভিশাপমুক্ত করেছি। ২০০৮ সালে বলেছিলাম ডিজিটাল বাংলাদেশ করব। আজ বাংলাদেশ ডিজিটাল। আমরা অনলাইনে কেনাকাটা, যোগাযোগ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন অনেক কাজ করছি।
ঢাকা- চট্টগ্রাম ফোর লেন কাজ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম এয়ারপোর্টকে প্রথম আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে পরিণত করা হয়েছে।কক্সবাজার -গুনধুম রেললাইনের কাজ শুরু হয়েছে। আগামীতে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সকল উপজেলায় সিভিল ডিফেন্স ফায়ার সার্ভিস সেন্টার করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বে টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ নানা প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগকে আবার বিজয়ী করে এইসব গৃহিত বাস্তবায়নের সুযোগ দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুরুর আগে অনুষ্ঠান মঞ্চে চট্টগ্রাম বিভাগের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রাম-৯ আসন প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমূখ।

সর্বশেষ