খুলনার রূপসায় ছেলে হত্যার দেড় মাসের মাথায় এবার গুলিতে নিহত হলেন বাবা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে আক্তার ঢালী (নাম বয়স উল্লেখ করা হয়নি) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট একই এলাকার শহীদের মোড়ে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর এবার তাঁর বাবাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার মাগরিবের নামাজ আদায় শেষে স্থানীয় একটি মসজিদের পাশে চায়ের দোকানে যান আক্তার ঢালী। সেখানে অন্যদের সঙ্গে বেঞ্চে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন তিনি। সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান স্থানীয়রা।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্তার ঢালীকে চায়ের দোকানের বেঞ্চের পাশে উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে রূপসা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বলেন, দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী নিহত হয়েছেন। হত্যার কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত জয়ের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
রূপসায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সর্বশেষ এই ঘটনা ঘটল। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত উপজেলায় ১২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শুধু রূপসা নয়, সাম্প্রতিক সময়ে খুলনার অন্যান্য এলাকাতেও হত্যার ঘটনা ঘটছে। এর এক দিন আগে রোববার দিঘলিয়া উপজেলার ফরমাইশখানা এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে একটি চায়ের দোকানে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা জেলার নয়টি থানায় ৩৩টি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে গুলিতে হত্যার ঘটনা রয়েছে সাতটি।
এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ১১টি ঘটেছে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে। এ ছাড়া মাদকসংক্রান্ত কারণে তিনটি, চুরি-ছিনতাইকে কেন্দ্র করে তিনটি, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি এবং আর্থিক বিরোধের জেরে দুটি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলার ঘটনায়ও একটি হত্যা মামলা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, এ ৩৩টি হত্যা মামলার মধ্যে ২৫টির রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। তবে রূপসায় ছেলে হত্যার দেড় মাসের মধ্যে বাবাকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

