জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক গাড়িচালক মো. তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী মোকাররম হোসেন।
রায়ে তাজুল ইসলামকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৮৬ টাকার ৫০ শতাংশ হিসেবে ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁকে আরও ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী খাইরুন্নেছা বেগমকেও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ১৫ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে অতিরিক্ত ছয় মাস সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলায় যে অভিযোগ
মামলার নথি অনুযায়ী, তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী পরস্পরের যোগসাজশে জ্ঞাত আয়ের বাইরে অর্থ উপার্জন করেন। পরে ওই অর্থ ব্যবহার করে খাইরুন্নেছা বেগমের নামে জমি কেনা এবং ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া স্বামীর অবৈধভাবে অর্জিত অর্থকে বৈধ হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে খাইরুন্নেছা নিজের নামে আয়কর নথি খোলেন এবং সেখানে সম্পদ ও আয়ের উৎস সম্পর্কে তথ্য দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার সময় ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছিল।
এসব অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
তদন্ত শেষে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ২০২৫ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে সোমবার আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন।

