চট্টগ্রামে খেজুরে তেল মিশিয়ে প্যাকেটজাত, পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম:
spot_img

মো.মোক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম: অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেজুর সংরক্ষণ, খেজুরে তেল মিশিয়ে প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করা, মূল্য তালিকা না রাখা এবং খাবার তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রামে পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নগরের ফলমন্ডি ও স্টেশন রোড এলাকায় বাজার তদারকির অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে এসব জরিমানা করা হয়। অভিযানে তিনটি খেজুর ও ফল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি খেজুর প্যাকেটজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট পাঁচ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং কেনাবেচার ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় মেসার্স আল্লাহওয়ালা এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স এন্ড ব্রাদার্সকে দুই হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একই ধরনের অনিয়মের দায়ে মেসার্স রাউজান এন্টারপ্রাইজকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে সবচেয়ে বেশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে তুহিন এন্টারপ্রাইজকে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মোড়কজাতকরণ বিধি অনুসরণ না করে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেজুর সংরক্ষণ, খেজুরের গায়ে তেল মিশিয়ে প্যাকেটজাত এবং বাজারজাত করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

এ ছাড়া খাদ্যদ্রব্য রান্নায় কাশ্মীরি মরিচ ব্যবহার এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার প্রক্রিয়াজাত করার দায়ে দেওয়ানহাট এলাকার তায়েফ রেস্তোরাঁকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানান, বাজার তদারকির সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের আর্থিক জরিমানা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা ও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা, পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করা এবং খাদ্যপণ্যের নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে বাজারে অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভোক্তাদের সতর্কতা: খাদ্যপণ্য কেনার সময় পণ্যের মোড়ক, সংরক্ষণের পরিবেশ, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং বিক্রয়মূল্য যাচাই করা জরুরি। অস্বাভাবিক রং, গন্ধ বা তৈলাক্ত আবরণযুক্ত খেজুর কিংবা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি খাবার কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম চোখে পড়লে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানো যেতে পারে।

সর্বশেষ