মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করতে আজারবাইজান ও ইরাক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সফরকালে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার রাতেই আজারবাইজানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তিনি। ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দেশটির রাজধানী বাকুতে অবস্থানকালে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলন (সিআইসিএ)-এর আওতায় একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।
বৈঠকে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ সম্মেলনের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে সরকার আগ্রহী।
ইরাকে ওআইসির বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব
আজারবাইজান সফর শেষে আগামী ১৭ অক্টোবর ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যাওয়ার কথা রয়েছে হুমায়ুন কবিরের। সেখানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ারও কথা রয়েছে তাঁর।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা পেরিয়ে ইরাকে উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইরাকসহ বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। ফলে সেখানে সংঘাত বা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রবাসীদের জীবন, জীবিকা ও কল্যাণ ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার প্রভাব শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতও এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আঞ্চলিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশ বিভিন্ন পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও আলোচনার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ এবং পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ সুগম করা।
শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা রাখার আগ্রহ
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আজারবাইজান ও ইরাক সফরের মাধ্যমে মধ্য এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলোও সফরে গুরুত্ব পাবে।

