ইউসিবিএলের ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: জাবেদসহ ৩৬ জনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

মো. মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম: ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ চলছে। মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানকে টানা তৃতীয় দিনের মতো জেরা করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। এ পর্যন্ত মামলায় ৫৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা হয়। আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) আবারও তাঁকে জেরার জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

যেভাবে ঋণ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের প্রটোকল অফিসার ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে নামসর্বস্ব ‘ভিশন ট্রেডিং’ প্রতিষ্ঠানের মালিক সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করানো হয়। পরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ তাঁর কর্মচারীদের মাধ্যমে ওই অর্থ উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেন এবং সেই অর্থে সম্পদ কেনেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অর্থ আত্মসাতের এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগগুলো বিচারাধীন; আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে।

আসামিদের তালিকায় ব্যাংক পরিচালক ও কর্মকর্তারা

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তাঁর স্ত্রী ও ইউসিবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী। এ ছাড়া ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর, সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী এবং সাবেক একাধিক পরিচালক ও কর্মকর্তা আসামি হয়েছেন।

আসামিদের তালিকায় ইউসিবিএলের সাবেক কর্মকর্তা এবং জাবেদের পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ফরমান উল্লাহ চৌধুরী, মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম, আবদুল আজিজ, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী, ইয়াছিনুর রহমান, ইউছুফ চৌধুরী ও সাইফুল ইসলাম রয়েছেন। আরামিট গ্রুপের এজিএম উৎপল পালসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।

৩১ আসামি থেকে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তাঁর স্ত্রীসহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান। পরে তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি তিনি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগের ৩১ আসামির বাইরে আরও সাতজনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে সাক্ষী করা হয়েছে ৯২ জনকে। তবে তাঁদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৫৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

মামলার দুই আসামি ইউসিবিএলের সাবেক ক্রেডিট ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল আউয়াল ও কাজী মোহাম্মদ দিলদার আলম মারা গেছেন। তাঁদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

বর্তমানে মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা চলছে। বুধবারের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে আরও জেরা করবেন।

সর্বশেষ