আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। বুধবার ভোর ৬টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির উপকূল অতিক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর প্রভাবে ভারতের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী দুই দিন বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে। গত তিন ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ৩ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। পরবর্তী সময়ে এটি প্রথমে উত্তর-পশ্চিম এবং পরে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগোতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার রাত থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায়। এ সময়ে মোংলায় ২৩, কয়রায় ২৩, চট্টগ্রামে ৮ এবং খুলনায় ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসা বলেন, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব উপকূল অতিক্রম করার প্রভাবে বাংলাদেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। আগামী দুই দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ৩০ অক্টোবর বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট আবহাওয়াগত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বুধবার সকালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে দেশের আটটি অঞ্চলে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। অঞ্চলগুলো হলো—যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব অঞ্চলে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যেতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও এর প্রভাবে সৃষ্ট আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সমুদ্রবন্দরের সতর্কসংকেত এবং মাছ ধরার নৌযান চলাচলে দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

