ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে নির্বাচনে জয়ী হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে, এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। এর আগে ট্রাম্পও ইরানে শুরু করা অভিযান শেষ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
রোববার রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের কোনো প্রধানমন্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের মধ্যে আগে কখনো তাঁদের মতো ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে ওঠেনি। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের আরও দুই বছর বাকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলিদের তাঁকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুকে ভোট দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে তাঁরা যে অভিযান শুরু করেছেন, তা শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারিতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ট্রাম্প।
নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, ইরানের হুমকি স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে ট্রাম্প পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তবে তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইসরায়েলে তিনি ক্ষমতায় থাকলেই এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ উদ্দেশ্যে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও সামরিক বাহিনীকে ইতোমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, ইরানের হুমকি পুরোপুরি বন্ধ করার একমাত্র উপায় দেশটির বর্তমান সরকারকে উৎখাত করা।
এদিকে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের উপপ্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, ট্রাম্পের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরান অর্থনৈতিক ও সামরিক—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক দুর্বলতার মুখে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন চললেও অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালাবে না বলেও স্পষ্ট করেন কেলি।
গত ১৮ অক্টোবর প্রথমবারের মতো নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান ট্রাম্প। সোমবার সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, নেতানিয়াহু দ্বিতীয়বার তাঁর সমর্থন চেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও নেতানিয়াহু ভালো কাজ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও মধ্যপন্থি সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটও ট্রাম্পকে ইসরায়েলের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে অভিহিত করেছেন। ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের প্রচেষ্টা ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ইসরায়েলের জনগণ যাঁকেই নেতা হিসেবে নির্বাচিত করুক না কেন, ট্রাম্প তাঁর সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশা করেন।
সূত্র: রয়টার্স

