ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক অভিযান চালানো হলে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের হামলার অপেক্ষায় না থেকে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাবে তেহরান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদোল্লাহি জানান, ইরানের সামরিক বাহিনী গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে। শত্রুপক্ষের সামরিক প্রস্তুতি, অবস্থান ও গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা নিয়মিত পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপের আভাস পাওয়া গেলেই ইরান নিজস্ব কৌশল অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। শত্রুপক্ষ প্রথমে হামলা চালাবে, এরপর জবাব দেওয়া হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা তেহরানের নেই।
ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সম্ভাব্য পাল্টা আঘাত হবে দ্রুত, কার্যকর এবং ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনি জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার পর আবদোল্লাহি এসব মন্তব্য করেন। তিনি সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনাকে দূরদর্শী ও সিদ্ধান্তমূলক উল্লেখ করে বলেন, অতীতে তৃতীয় ‘আরোপিত যুদ্ধের’ সময় যেভাবে এসব নির্দেশনা সামরিক বাহিনীকে পথ দেখিয়েছিল, এবারও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশটির জনগণ ও সর্বোচ্চ নেতাকে আশ্বস্ত করে আবদোল্লাহি বলেন, ইরানের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেও মাতৃভূমি রক্ষা করা হবে।
তিনি আরও জানান, কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশনা অনুসারে সামরিক বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতা মোকাবিলায় নতুন কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে।
আবদোল্লাহির দাবি, ইরানে নতুন করে হামলা হলে এবারকার প্রতিক্রিয়া আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্ন ও বেশি কঠোর হবে। তৃতীয় ‘আরোপিত যুদ্ধের’ সময় যে ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, নতুন পরিস্থিতিতে তার চেয়েও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।
যুদ্ধের পরিণতি নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, কখন যুদ্ধ শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে। প্রতিপক্ষের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই দেশটির সামরিক বাহিনী নিজেদের প্রস্তুত করছে।
তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ

