তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া জেরিকার চার দিনের রিমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক :
spot_img

সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনিম দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।

- Advertisement -

রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন জেরিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রযুক্তিগত উপাত্ত এবং উত্তরার বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জেরিকার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ডিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে এবং রাতে উত্তরার নেষ্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে নিহত তাহসিফের সঙ্গে তাকে দেখা যায়। একই দিন একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজেও দুজনকে একসঙ্গে যাওয়ার দৃশ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।৪ দিনের রিমান্ডে তাহসিফের সঙ্গে বারে যাওয়া সেই তরুণী

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার পর দীপ নামে এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ সাউরি। রাতে বাড়ি না ফেরায় তার মা একাধিকবার ফোন করলে কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসার কথা জানান তিনি। পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মেসেঞ্জারে নিজের ফোন থেকে মায়ের কাছে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। সেখানে তিনি বলেন, ‘রওনা দিয়েছি, আসছি।’

তবে এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তাহসিফ। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে তার বাবাকে ফোন করে উত্তরখানের রাজারবাড়ি ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর জানায় নৌ-পুলিশ।

পরবর্তীতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে ২৯ অক্টোবর দুপুরে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন বিকেলে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে ধর্মীয় রীতি মেনে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে, এ মামলার আরেক সন্দেহভাজন শাহরিয়ার রেজা দীপকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরে আদালত তারও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং এতে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ।

সর্বশেষ