জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’—এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস আত্মসমর্পণ ও স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘বিপ্লবের কথা বলেন? আপনাদের রাজনীতির ইতিহাস তো আত্মসমর্পণের ইতিহাস, স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।’
দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির এ নেতা অভিযোগ করেন, গার্মেন্টস শ্রমিকদের হঠাৎ করে রাস্তায় নামিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে তারেক রহমান বিভিন্ন দেশে গিয়ে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছেন। দেশকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে তারেক রহমানের নেওয়া উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রিজভীর অভিযোগ, এসব তৎপরতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি ও বাসে অগ্নিসংযোগ, পুলিশ বক্সে আগুন এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রোববার ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন। ওই ব্যক্তি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আন্দোলনের মধ্যে থেকে এসব কর্মকাণ্ড চালানোর কথা জানিয়েছেন বলে দাবি করেন রিজভী।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, একদিকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি, যারা পরাজিত হয়েছে; অন্যদিকে নতুন একটি শক্তি রয়েছে। তার অভিযোগ, নতুন এই শক্তি পরাজিত শক্তির সঙ্গে গোপন সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করছে।
তারেক রহমানের সামাজিক সুরক্ষা পরিকল্পনার বিষয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিত এবং বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির অনুসারীরা দেশের মাটি, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে। বিদেশে তাদের কোনো প্রভু নেই; এ দেশেই তাদের বসবাস এবং ভবিষ্যৎ।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য বলে জানান বিএনপির এই নেতা।
অনুষ্ঠানে সাত দফা দাবির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, এসব দাবির মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের বিষয় রয়েছে। তবে সংবিধান সংস্কার বলতে কী বোঝানো হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানান তিনি।

