মালয়েশিয়ায় অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে আটক বিদেশি নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযান অব্যাহত রেখেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ৯টি দেশের মোট ১৮২ জনকে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৪৫ জন বাংলাদেশি।
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপো থেকে এসব বিদেশি নাগরিককে প্রত্যাবাসন করা হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। দেশটির ৮৫ জনকে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশি ৪৫ জন, মিয়ানমারের ২৫ জন, পাকিস্তানের ১৫ জন, ভারত ও থাইল্যান্ডের ৩ জন করে, কম্বোডিয়ার ৩ জন, শ্রীলঙ্কার ২ জন এবং চীনের ১ জন নাগরিক রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের জন্য কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ ব্যবহার করা হয়েছে। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের অধিকাংশের কাছেই বৈধ পাসপোর্ট ছিল। যাঁদের পাসপোর্ট ছিল না, তাঁদের কয়েকজনকে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের সহযোগিতায় জরুরি ভ্রমণ নথি বা ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট দেওয়া হয়। পরে এসব নথি ব্যবহার করে তাঁদের নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, আটক বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে পেকান নেনাস ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোতে বিশেষ সেবাকেন্দ্র চালু রেখেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিরা দেশে ফেরার বিমান টিকিট কেনাসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারছেন।
অভিবাসন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব সেবা নিতে আটক ব্যক্তিদের কোনো ধরনের সেবামূল্য বা অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয় না।
উল্লেখ্য, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়া থেকে প্রত্যাবাসিত ১৮২ জনের মধ্যে ৪৫ জনই বাংলাদেশি। অর্থাৎ ওই সময়ে দেশে ফেরত পাঠানো বিদেশি নাগরিকদের প্রায় ২৫ শতাংশ ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক।

