যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালালে এর পাল্টা জবাব ইউরোপ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের এক আইনপ্রণেতা। একই সঙ্গে এমন সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন দেশটির শাহিন শহরের সংসদ সদস্য হোসেইনালি হাজি দেলিগানি।
দেলিগানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক অভিযান শুরু করে, তাহলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া নির্দিষ্ট কোনো ভৌগোলিক অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইরানের পাল্টা হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছানোর সক্ষমতা রাখে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়বে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে।
ইরানি এই আইনপ্রণেতার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েলের হামলার ধরন, মাত্রা ও অবস্থান বিবেচনা করে তেহরান প্রতিক্রিয়া জানাবে না। বরং যেকোনো হামলার জবাব হবে ব্যাপক, বহুগুণ শক্তিশালী ও কৌশলগত। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমারেখাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকেও যুদ্ধের একটি ধরন হিসেবে দেখছেন দেলিগানি। তাঁর দাবি, এ ধরনের অবরোধ ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি বৈরী পদক্ষেপের শামিল। উপযুক্ত সময় এলে ইরানি বাহিনী এর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তবে ইউরোপের কোন কোন দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি এই সংসদ সদস্য। তাঁর বক্তব্যে মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন হামলার ক্ষেত্রে ইরানের কঠোর সামরিক অবস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা

