ইরানের দাবি, কেশম দ্বীপের আকাশে ভূপাতিত আরও একটি মার্কিন ড্রোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
spot_img

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি এমকিউ-১ গোয়েন্দা ও হামলাকারী ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ড্রোনটি শনাক্ত করার পর ভূপাতিত করা হয়েছে। এ নিয়ে ইরানের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৬টি এমকিউ-১ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

- Advertisement -

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর আইআরএনএর।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে কেশম দ্বীপের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরে নতুন একটি উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংস করা হয়।

আইআরজিসি আরও জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের আকাশসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। শত্রুপক্ষের বিমান ও ড্রোনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি তাদের উড্ডয়নপথ এবং গোয়েন্দা তৎপরতার ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালালে পাল্টা আঘাতের পরিধি ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের এক সংসদ সদস্য। তাঁর দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছানোর সক্ষমতা রাখে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দেন শাহিন শহরের সংসদ সদস্য হোসেইনালি হাজি দেলিগানি।

তিনি বলেন, সম্ভাব্য পাল্টা হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের আওতা ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এর প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে।

দেলিগানি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইসরায়েল ইরানে কী ধরনের হামলা চালাবে অথবা কোথায় হামলা করবে, তা বিবেচনা করে তেহরান তার প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ রাখবে না। বরং যেকোনো হামলার জবাব হবে ব্যাপক, শক্তিশালী ও কৌশলগত। এ ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অবস্থানকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ইরানের এই বক্তব্য ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

সূত্র: আইআরএনএ

সর্বশেষ