আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জাপানের মধ্যাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গভীর রাতে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে বিভিন্ন ভবনের দোকানের কাচ ভেঙে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও ভবন ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কয়েকটি এলাকায় সড়কে কাচের টুকরো ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি দোকানপাটের ভেতরে জিনিসপত্র এলোমেলো হয়ে যায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এর মাত্রা ৫ দশমিক ৫ বলে জানিয়েছে। মূল কম্পনের পর ওই এলাকায় কয়েকটি ছোট পরাঘাতও অনুভূত হয়।
স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল শিজুওকা প্রিফেকচারে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে। ভূকম্পনে আইচি প্রিফেকচারসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। কম্পন অনুভূত হয় হামামাতসু শহর, প্রাচীন রাজধানী কিয়োতো ও নারা এবং ইয়ামানাশি ও গিফু প্রিফেকচারেও।
জাপানের টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্যগুলোতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। বিভিন্ন দোকানের জানালার কাচ ভেঙে সড়কে ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একটি বইয়ের দোকানে তাক থেকে বিপুলসংখ্যক বই মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আহতদের কয়েকজন ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে যান।
সরকারি ভূকম্পন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সবচেয়ে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে আইচি অঞ্চলে। তবে রাজধানী টোকিওতে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়নি।
এদিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে রেললাইন বা অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এ কারণে ভূমিকম্প মোকাবিলায় দেশটিতে উন্নত সতর্কতা ব্যবস্থা ও বিশেষ নির্মাণবিধি অনুসরণ করা হয়।

