প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img

দেশের প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে বড় ধরনের অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার উন্নয়নে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেবে সংস্থাটি। এ অর্থ দিয়ে শিশুদের পড়া, লেখা ও গণিতের মৌলিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

- Advertisement -

গত ৬ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকদের পর্ষদ এ অর্থায়নের অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নেও সহযোগিতা করবে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের স্বল্প আয়ের দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) মাধ্যমে এ ঋণ দেওয়া হবে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড, অর্থাৎ এ সময়ে ঋণ পরিশোধে ছাড় পাওয়া যাবে।

বিশ্বব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, দেশে ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় অর্ধেকই বয়স অনুযায়ী সহজ কোনো লেখা পড়ে তা সঠিকভাবে বুঝতে পারে না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশুদের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা একটি দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক কর্মশক্তি গড়ে তোলার প্রধান ভিত্তি। গত দুই দশকে বাংলাদেশের প্রায় সব শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতা করেছে। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতা বাড়বে এবং বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতি ও পড়াশোনা অব্যাহত রাখার সুযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা আকারের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। সরকারি বিদ্যালয়ের পাশাপাশি এনজিও পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কিন্ডারগার্টেন ও মাদ্রাসায় ২ কোটির বেশি শিশু শিক্ষা গ্রহণ করছে। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিতের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ শিক্ষা প্যাকেজ চালু করা হবে। এ প্যাকেজে থাকবে প্রয়োজনীয় পাঠ্য ও শিক্ষণ উপকরণ, শ্রেণিভিত্তিক পাঠপরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন নিজ নিজ শ্রেণির উপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে শেখার ঘাটতি দূর করা গেলে পরবর্তী শিক্ষাজীবনে শিক্ষার্থীদের ভিত্তি আরও মজবুত হবে। বিশ্বব্যাংকের এ অর্থায়ন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বিপুলসংখ্যক শিশুর শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

সর্বশেষ