পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএম-এর বিরুদ্ধে প্রকাশিত মিথ্যা ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদ

 

- Advertisement -

গত কয়েকদিন ধরে কয়েকটি অনলাইন পত্রিকায় ‘একটি থানার ওসি’র সম্পদের পরিমান কেমনে ২৩৫ কোটি টাকা’ শিরোনামে কয়েকটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এই মিথ্যা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে প্রকাশিত সংবাদটির প্রতি আমার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। আমি এই মিথ্যা সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ বিষয়ে আমার বক্তব্য নিম্মরূপঃ
আমি ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করি। যোগদানের পর হইতে বিভিন্ন জেলায় অত্যন্ত সুনামের সহিত অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করিয়া আসিতেছি। আপনাদের পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে সেসব অভিযোগ সম্পুর্ণ মনগড়া, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। প্রথমতঃ আমি একজন সরকারী প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা। বিগত ২০১২ সাল হইতে আমি নিয়মিত কর প্রদান করিয়া আসিতেছি। প্রকাশিত সংবাদে আমার ইটিআইএন নাম্বার ছাড়া বেতন উত্তোলনের অভিযোগ আনা হলেও প্রকৃত অর্থে আমার ইটিআইএন নাম্বারও আছে।
আমি আমার পরিবার পরিজনসহ চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ সিডিএ এলাকায় সরকারী কোয়ার্টারে বিগত ৭ বছর ধরে বসবাস করিয়া আসিতেছি। চট্টগ্রাম শহরে আমার কোন নিজস্ব প্লট বা ফ্ল্যাট নেই বলেই আমি আগ্রাবাদের মতো নিত্য জলমগ্ন এলাকায় অত্যন্ত দুর্ভোগময় পরিস্থিতির মধ্যে বসবাস করে আসছি। চট্টগ্রাম শহরে আমার নামে কোথাও কোন জায়গা, প্লট, ফ্ল্যাট কিংবা বাড়ি নেই। এমনকি ঢাকা শহরেও আমার নামে এইরূপ কোন কিছুই নেই। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে পতেঙ্গা ও আকবর শাহ থানায় সর্বমোট আমি ৩ বছর ৩ মাস অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। আকবর শাহ থানায় ১৭ মাস দায়িত্বপালন কালে মাদকের বিরুদ্ধে জোড় অবস্থানের কারনে, মাদক উদ্ধার, মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার করে মোট ৪০৭টি মামলা রুজু করে ৫৩৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করি। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজা, হিরোইন ও চোলাই মদ উদ্ধার করি। এর মধ্যে উদ্ধারকৃত ইয়াবার পরিমান ৩ লাখ ২৫ হাজার ১৮৯ পিস। যার আনুমানিক মুল্য ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অথচ আমার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পৃক্ততা, যোগসাজশের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি কোন ধরনের মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদক সংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ের সাথে আমার সম্পৃক্ততা নাই।
আকবর শাহ থানা এলাকায় জমি দখলের সম্পৃক্ততার যে অভিযোগ প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে সেসব অভিযোগ ঢালাওভাবে মনগড়া তথ্য দিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে যা সম্পুর্ণ মিথ্যা। এই ধরনের কোন বিষয়ের সাথে আমার কখনো সম্পৃক্ততা ছিলনা। প্রকৃত অর্থে আকবর শাহ থানা এলাকায় মহামান্য হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কতিপয় ব্যাক্তির জায়গা দখলে সহায়তা না করায় এবং প্রতিপক্ষকে ক্ষমতার অবব্যবহার করে মিথ্যা মামলায় জড়িত না করায় আমার বিরুদ্ধে এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে আমি মনে করি।
ব্যাংকে আমার নামে যে এফডিআর কিংবা বিপুল টাকা জমা থাকার যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে সেসব অভিযোগও সম্পুর্ণ মিথ্যা। আমি ২ বছর ৩ মাস পূর্ব তিমুর ও সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করি। এই সময়ে জাতিসংঘ থেকে প্রাপ্ত অর্থ আমি বৈধভাবে নিজনামে ব্যাংকে জমা রেখেছি। এর বাইরে আমি কিংবা আমার স্ত্রীর নামে অন্য কোন লেনদেন কোন ব্যাংকেই নেই।
বিগত ২০১৭ ইংরেজী সনে আকবর শাহ থানায় দায়িত্বপালনকালে গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রন, কর্তব্যনিষ্ঠা, সাহসিকতা, দক্ষতা, সততা, শৃংখলামুলক আচরণের জন্য রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পিপিএম (সেবা) অর্জন করি। এ ছাড়া আমার মাধ্যমে আলোচিত শিশু ‘একুশ’ উদ্ধারের ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। পিপিএম সেবা পদক প্রাপ্তিতে এই ঘটনাটিও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।
বর্তমানে আকবর শাহ থানা থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে আমার বদলী সরকারী চাকুরির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বছরের মাঝামাঝি সময়ে বদলী হওয়ায় সন্তানের পড়ালেখার বিঘ্ন ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় আমি যথানিয়মে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বদলী বাতিলের জন্য আবেদন করিয়াছি। এর মধ্যে অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই।
আমার নামে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমসহ বিভিন্ন সরকারী সংস্থায় নামে বেনামে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ আনায়ন করা হয়েছে তা শুধুমাত্র চাকুরিজীবনে দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনামকে ভুলুন্ঠিত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার কু-মানসে এই ধরনের মনগড়া ভিত্তিহীন বানোয়াট অভিযোগ বিভিন্নস্থানে প্রেরণ করছে। আমি এই ধরনের মিথ্যা বিভ্রান্তিমুলক প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য কোন ব্যক্তি বিশেষের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যাক্তির বক্তব্য গ্রহন করা সংবাদের নীতিমালার একটি অংশ। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কোন ধরনের বক্তব্য গ্রহন ছাড়াই এরূপ মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আমার এতদসংক্রান্ত ব্যাখা প্রকাশ এবং পূর্বে প্রকাশিত মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং আমার পরিবারকে জড়িয়ে অসত্য তথ্যসম্বলিত সংবাদটি প্রত্যাহারের অনুরোধ করছি। অন্যথায় বাংলাদেশে প্রচলিত আইন ও বিধি মোতাবেক প্রতিকারের জন্য আমি আদালতের দ্বারস্থ হব।

সর্বশেষ